সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন করা নিয়ে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাই কোর্ট। সরকারি শিক্ষকদের টিউশনে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু বিজ্ঞপ্তির ৮ বছর কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কেন পদক্ষেপ নয়! আর তা নিয়েই বিস্তারিত জবাব তলব কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চের। শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালের সরকারি নির্দেশিকা এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্টও হলফনামা আকারে মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ আদালতের।
কার্যত নির্দেশিকা উপেক্ষা করেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। যেগুলির সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে সরকারি কিংবা আধা সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা যুক্ত বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, সেই সমস্ত শিক্ষকদের কাছে সন্তানদের পড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ অভিভাবকদের। একই অভিযোগ, ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইভেট টিউটর অ্যাসোসিয়েশনেরও। তাঁদের দাবি, এই কোচিং সেন্টারগুলির রমরমার কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে গৃহ শিক্ষকদের। এই মর্মেই সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশনের তরফে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়।
মামলায় আবেদন, ২০১৮ সালের গেজেট বিজ্ঞপ্তি অমান্য করে সরকারি এবং আধা সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা বেআইনিভাবে কোচিং সেন্টার এবং প্রাইভেট টিউশন করাচ্ছে। এমনকী এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও স্কুল শিক্ষাদপ্তর এবং রাজ্য কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে হাই কোর্টের হস্তক্ষেপও দাবি জানান আবেদনকারীরা। এদিন এই মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে।
শুনানিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইভেট টিউটর অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী জানান, হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল ২০১৮ সালের গেজেট বিজ্ঞপ্তি না মেনে যে সকল সরকারি ও আধা সরকারি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা কোচিং সেন্টার চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এমনকী সরকারি এবং আধা সরকারি স্কুলের শিক্ষক, যারা প্রাইভেটে শিক্ষকতা করছেন সেই তালিকা রাজ্যের হাতে তুলে দিলেও আজ পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ জানান আইনজীবী। এই অবস্থায় সরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দ্বারা পরিচালিত কোচিং সেন্টার এবং প্রাইভেট টিউশন অবিলম্বে বন্ধের আবেদন জানান। দীর্ঘ মামলার শুনানি শেষে এই বিষয়ে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করে হাই কোর্ট।
