বছর পনেরো আগে শেষ নির্বাচন লড়েছিলেন তিনি। হেরেছিলেন ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটে। চিরচেনা যাদবপুর ফেরাল খালি হাতে! সেই হতাশাতেই আর দাঁড়াননি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছবি আবার যাদবপুরের অলিতে গলিতে। সিপিএম নেতাদের ফিসফাস, "ভোট বৈতরণী পেরোতে পক্ককেশের পরলোকগত কমরেডই ভরসা।"
দু'হাজার ছাব্বিশের চৈত্রে লাল পতাকা লাগানো প্রচার গাড়ি ঘুরছে কলোনি এলাকার অলিতে গলিতে। আসন্ন বিধানসভা ভোটের মুখে মাইকে বাজছে পুরনো রেকর্ড। "এ লড়াই লড়তে হবে। এ লড়াই জিততে হবে..।" সব দেখেশুনে আমজনতার প্রশ্ন, "সবই তো বুঝলাম। লড়ছেটা কে?" প্রকৃতপক্ষে যিনি কাস্তে-হাতুড়ি-তারা চিহ্নে লড়ছেন সেই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যর ছবি যাদবপুর বিধানসভায় কমই। তার নেপথ্যে কারণও বিস্তর। ফার্স্ট রাউন্ডে প্রচারে বেরিয়েই একাধিক জায়গায় প্রশ্নের মুখে পড়েছেন বিকাশ। আড়ালে লোকে তাঁকে ডাকছেন, 'চাকরিখেকো' নামে। সম্প্রতি নয়াবাদে তাঁর পথসভা তো ভেস্তে যাওয়ার জোগাড়। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যর করা মামলার প্রেক্ষিতেই ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল বাংলার ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সে প্যানেলের সবাই অযোগ্য ছিলেন না। যার জেরে ভোট প্রচারে 'কটূক্তি' শুনতে হচ্ছে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে।
প্রকৃতপক্ষে যিনি কাস্তে-হাতুড়ি-তারা চিহ্নে লড়ছেন সেই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যর ছবি যাদবপুর বিধানসভায় কমই। তার নেপথ্যে কারণও বিস্তর। ফার্স্ট রাউন্ডে প্রচারে বেরিয়েই একাধিক জায়গায় প্রশ্নের মুখে পড়েছেন বিকাশ। আড়ালে লোকে তাঁকে ডাকছেন, 'চাকরিখেকো' নামে।
পিঠ বাঁচাতে যাঁর ছবি দেওয়ালে দেওয়ালে সাঁটা, তিনি মারা গিয়েছেন দু'বছর হতে চলল। শুভ্র কেশ, কালো ফ্রেমের ফোটোক্রোম্যাটিক লেন্সের চশমা, পাতলা ঠোটের চেনা হাসির মালিককে চেনে যাদবপুর। যাদবপুর বিধানসভার সিপিএম কর্মীরা বলছেন, "এই ইউএসপিটাই শেষ ভরসা। অস্বীকার করে তো লাভ নেই বুদ্ধবাবুর একটা ইমেজ আছে। কর্মসংস্থানের জন্য তিনি লড়েছিলেন। যাদবপুরের মানুষকে আমরা সেটা মনে করিয়ে দিচ্ছি।"
যদিও তৃণমূল প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার বলছেন, "যত মনে করাবে তত ওদেরই বিপদ।" কারণ? "সুলেখা কারখানা বন্ধ হয়ে সুউচ্চ বহুতল, অন্নপূর্ণা কারখানা বন্ধ হয়ে একতা হাইটস আর ডাবর বন্ধ হয়ে আকাশছোঁয়া আবাসন। এই তো যাদবপুরে সিপিএমের বিকাশের নমুনা। এখন আর কর্মসংস্থানের গল্প দিয়ে কী হবে।" মুচকি হেসেছেন 'মলয়দা'। বলছেন, "গোহারা হার ঠেকানো যাবে না কারও ছবি দিয়েই।" ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মহানাগরিক ছিলেন বিকাশরঞ্জন।
দেবব্রত মজুমদারের কথায়, 'সরকারি একটা টিবি হাসপাতাল ছিল যাদবপুরে। সেটার সিংহভাগ জমি বেসরকারি সংস্থাকে বেচে দিয়ে সিপিএমের সর্বহারার নেতারা বেসরকারি হাসপাতাল খুলেছেন। ওখানে তো গরিব লোকেদের চিকিৎসা হয় না। আমাদের সময়ে প্রান্তিক মানুষদের জেলা হাসপাতাল এম আর বাঙুর সুপারস্পেশালিটির তকমা পেয়েছে।" ত্রিমুখী লড়াইয়ে যাদবপুরের বিজেপির প্রার্থী শর্বরী মুখোপাধ্যায়। বুদ্ধবাবুর ছবি দিয়েও সিপিএমের বৈতরণী পার অসম্ভব বলেই জানান তিনিও।
