রক্ত সংগ্রহ ও বন্টনে একাধিক বেনিয়মের অভিযোগ। পাড়ায় পাড়ায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে রক্ত সংগ্রহ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। সরকারের নিশানায় ১১ বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক। ১ আগস্ট থেকেই সেই নির্দেশিকা কার্যকর বলে জানিয়েছিল স্বাস্থ্য ভবন। এবার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।
সরকারের কাছে আদালত জানতে চেয়েছে, কোন পর্যায়ে রয়েছে তদন্ত? আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে রিপোর্ট তলব করেছেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে রিপোর্ট তলব বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের। ১৯ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি।
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের তরফে নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছিল, সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে সারপ্রাইজ ভিজিটে গিয়ে রক্ত সংগ্রহ ও বন্টনের ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম নজর আসে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। তার পরিপ্রেক্ষিতেই শুরু হয় তদন্ত। আর সেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১১টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ককে রক্তদান শিবির আয়োজন করার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার এই প্রেক্ষিতেই সরকারের কাছে আদালত জানতে চেয়েছে, কোন পর্যায়ে রয়েছে তদন্ত? আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে রিপোর্ট তলব করেছেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে রিপোর্ট তলব বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের। ১৯ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি।
অনুমতি ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে রক্ত-প্লাজমা পাচার হয়েছে ভিনরাজ্যে। তদন্তে নেমে হাতকলমে প্রমাণ পেতেই ১১ ব্লাড ব্যাঙ্কের কাজকর্মে রাশ টানে স্বাস্থ্যদপ্তর। নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়, ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্ক আপাতত স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির করতে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গ স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল জারি করেছে তেমনই নির্দেশ। তবে সেন্টারগুলি নিজ হাসপাতাল অথবা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে সরকারি নিয়ম মেনে রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে। আরও বলা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে রক্ত এবং রক্তের উপাদান ট্রান্সফার করতে হলে স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলকে জানানো বাধ্যতামূলক। এবং তা ভিনরাজ্যে পাঠাতে গেলে অনুমতি নিতে হবে ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের। নয়া নির্দেশিকায় যে সমস্ত ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে এন্টালির লাইফ কেয়ার ব্লাড সেন্টার, যোধপুর পার্কের অশোক ল্যাবরেটরি ব্লাড সেন্টার, আলিপুরের কোঠারি মেডিক্যাল ব্লাড সেন্টার, বেলেঘাটার ওম ব্লাড সেন্টার হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার। উল্লেখ্য, ৬ মাসের মধ্যে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার ইউনিট লোহিত রক্তকণিকা বিক্রি করা হয়েছে ভিনরাজ্যে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যের ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
