রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পুরনো নির্দেশিকা মেনে বহু মসজিদ থেকে মাইক খোলা শুরু হয়েছে। যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর। ধর্মকে 'টার্গেট' করার অভিযোগ সংখ্যালঘুদের জনপ্রতিনিধিদের একাংশ। শাহের দরবারেও গিয়েছে নালিশ। এবার মসজিদ থেকে মাইক খোলা প্রসঙ্গে বিতর্কের জল গড়াতে পারে আদালতেও। তেমনটাই হুঁশিয়ারি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। বিরোধীদলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানকে পাশে নিয়ে তাঁর সাফ বক্তব্য, "আগামী শুক্রবারের মধ্যে আমরা হাই কোর্টে যাচ্ছি।"
ঋতব্রত জানান, "ধর্ম আসলে অঙ্গাঙ্গিকভাবে আমাদের জীবনধারণের সঙ্গে জড়িয়ে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি। এই বিষয়টা নিয়ে কোর্টেও যাব।"
শুক্রবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে 'আসল' তৃণমূলের প্রায় ১৬ বিধায়ক বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মসজিদের মাইক খোলার বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন তাঁরা। ঋতব্রত জানান, "ধর্ম আসলে অঙ্গাঙ্গিকভাবে আমাদের জীবনধারণের সঙ্গে জড়িয়ে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি। এই বিষয়টা নিয়ে কোর্টেও যাব। আমাদের মধ্যে আইনজীবী বিপ্লব দা, অরূপ দা আছেন, তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে আগামী সপ্তাহেই কোর্টে যাব।"
শব্দদূষণ রোধে সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া আইন মেনেই মাইক বাজানোয় সমস্যা কোথায়? বৃহস্পতিবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এই প্রশ্ন নিয়ে হাজির হয় বাংলার তিন এনসিপিআই সাংসদ। তাঁদের সাফ বক্তব্য ছিল, নির্দিষ্ট কোনও ধর্মকে যেন টার্গেট না করা হয়। যদি আইন হয়, তাহলে সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হোক। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে শাহের বৈঠকে এ প্রসঙ্গে পদক্ষেপের আবেদন জানান এনসিপিআইয়ের ৩ সংখ্যালঘু সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান, ইউসুফ পাঠানরা। ঠিক তার পরের দিনই এবার মসজিদ থেকে মাইক খোলা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে পৌঁছে গেলে ঋতপন্থীরা।
পাশাপাশি ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গেও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয় বলে জানান বিরোধী দলনেতা। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর বক্তব্য, "অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি আমাদের কোনও সহানুভূতি নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে হোক। কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে দেশের নাগরিকদের ভাগ করা চলবে না। সুনানি খাতুনের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে, মুখ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে কেন্দ্রের সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি দেশের নাগরিকদের অধিকার যেন ধর্মের ভিত্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। সমস্তটা কোর্টে জানাব।" রিজিওনালভাবে ট্রাইবুনালের পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রীকে দরবার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন 'আসল' তৃণমূলের স্রষ্টা।
