বঙ্গ বিধানসভা ভোটের আগে ক্রমশ চড়ছে উত্তাপ। আজ সোমবার রায়দিঘির মথুরাপুরে 'পরিবর্তন যাত্রা'র সূচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সভা থেকে একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ শানান তিনি। একইসঙ্গে নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ শানান। তার 'জবাব' দিতেই এবার পালটা আগামী ৮ মার্চ, রবিবার রায়দিঘিতে সভা করবেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে যে মাঠে এদিন সভা করেছেন অমিত শাহ, সেখানেই এই সভা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
২৬ এর নির্বাচন সাংগঠনিকভাবে দুর্বল থাকা বঙ্গ বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ! আর তাই ভোটের আগে নেতা-কর্মীদের মনোবল বাড়াতে রাজ্যজুড়ে 'পরিবর্তন যাত্রা' শুরু করেছে বিজেপি। বকলমে যা রথযাত্রা। রাজ্যের প্রত্যেক বিধানসভা আসনে ঘুরবে বিশেষ এই রথ। এদিন মথুরাপুরে সেই কর্মসূচিতেই যোগ দেন অমিত শাহ। সেই সভা থেকেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক ইস্যুতে শাসকদল তৃণমূলকে আক্রমণ শানান তিনি। একইসঙ্গে অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা গড়ারও ডাক দেন শাহ। পাশাপাশি নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শাহ বলেন, ''তৃণমূলকে এবার ভোট দিলে বড় ভুল করবেন। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়, ভাইপোর (পড়ুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) শাসন হবে!'' এমনকী মুখ্যমন্ত্রী বাংলার যুবসমাজের উন্নতির কথা ভাবছেন না বলেও অভিযোগ করেন শাহ। পাশাপাশি পরিবারতন্ত্র নিয়েও খোঁচা দেন।
কার্যত এহেন অভিযোগের পালটা 'জবাব' দিতেই আগামী ৮ মার্চ রায়দিঘিতে পালটা সভা করার ডাক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যদিও এদিন দলের একটি কর্মসূচি থেকে বিজেপির 'পরিবর্তন যাত্রা' নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন সাংসদ। অভিষেক বলেন, “জমিদারবাবুরা গতকাল থেকে রথ যাত্রা শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারিতে রথ এই প্রথম দেখছি। দেব দেবীদের রথ যাত্রা দেখেছি। এই প্রথম চোর চিটিংবাজদের রথ যাত্রা দেখছি।” শুধু তাই নয়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কথায়, ”৭০ আসন পেয়ে রথ করছে। ভাবুন আরও ৭০ আসন পেলে কি করত?” এরপরেই মানুষের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, ”আপনাদের এলাকা দিয়ে রথ গেলে মাছ মাংস খাওয়াবেন। অতিথি দেব ভব। ওদের নেতারা মাছ খেতে বারণ করে। কিন্তু আমরা অতিথিদের আপ্যায়ন করব। হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন।”
