ভোটের মুখে বঙ্গের সাংবিধানিক প্রধানের দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন রাজ্যপাল রবীন্দ্রনাথ রবি। বৃহস্পতিবার লোকভবনে তাঁর শপথ অনুষ্ঠান ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি প্রোটোকল মেনে আমন্ত্রিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari)। কিন্তু সেসময় বিধানসভা ভোট সংক্রান্ত জরুরি বৈঠকের জন্য দিল্লিতে থাকায় লোকভবনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। তাই পরদিন, শুক্রবার বেলায় লোকভবনে গিয়ে দেখা করলেন রাজ্যপাল আরএন রবির সঙ্গে। আর দেখা করেই কার্যত নালিশের ঝাঁপি উপুড় করে দিলেন বিরোধী দলনেতা! রাজ্যপালের কাছে তাঁর আবেদন, ''গত ৫ বছরে পাঁচবার সাসপেন্ডেড হয়েছি, সাড়ে ১১ মাস ধরে আমি বিধানসভার বাইরে। গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে আমাকে বলতে দেওয়া হয়নি। এই অবস্থা। আপনি সংবিধান বাঁচান।'' আধঘণ্টা সাক্ষাৎ পর্ব সেরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু নিজেই এসব কথা জানালেন।
শুক্রবার বেলায় লোকভবনে গিয়ে দেখা করলেন রাজ্যপাল আরএন রবির সঙ্গে। আর দেখা করেই কার্যত নালিশের ঝাঁপি উপুড় করে দিলেন বিরোধী দলনেতা! রাজ্যপালের কাছে তাঁর আবেদন, ''গত ৫ বছরে পাঁচবার সাসপেন্ডেড হয়েছি, সাড়ে ১১ মাস ধরে আমি বিধানসভার বাইরে। গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে আমাকে বলতে দেওয়া হয়নি। এই অবস্থা। আপনি সংবিধান বাঁচান।''
শুক্রবার বেলার দিকে লোকভবনে যান শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপাল আরএন রবির সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে তুলে দেন কমলা গোলাপের স্তবক, গীতার ইংরাজি অনুবাদ। বিরোধী দলনেতাকেও পালটা উত্তরীয় পরিয়ে দেন রাজ্যপাল। মিনিট তিরিশেক তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা হয়। এরপর বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু জানান, তিনি নতুন রাজ্যপালকে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা সবিস্তারে জানিয়েছেন। সাংবিধানিক প্রধান এসব বিষয় অবগত করা তাঁর কর্তব্য। তাই প্রতি খুঁটিনাটি বিষয় তিনি রাজ্যপালকে জানান। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, গণতন্ত্রের চারটি স্তম্ভই একে একে ভেঙে পড়েছে। বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর অভিযোগ, তিনি সংবিধান না মেনে বিরোধী দলনেতাকে যখনতখন সাসপেন্ড করেন, তাঁকে অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বলতে দেওয়া হয় না।
আরএন রবির সঙ্গে সাক্ষাৎ শুভেন্দু অধিকারীর। নিজস্ব ছবি
শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, আমলাতন্ত্র নিজের ইচ্ছেমতো চালাচ্ছে বর্তমান রাজ্য সরকার। অবসরের পরও আমলারা বিশেষভাবে সরকারি আনুকূল্য পান, তাঁদের নতুন পদে নিয়োগ করা হয়। চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদমাধ্যমও আক্রান্ত এরাজ্যে। বিভিন্ন জায়গায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। এসব কথা তুলে ধরে রাজ্যপালের কাছে শুভেন্দু অধিকারীর আবেদন, ''সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে আপনার কাছে অনুরোধ, আপনি সংবিধান বাঁচান।'' যদিও শুভেন্দুর এহেন বক্তব্যে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, ফের লোকভবনকে নিজেদের অনুকূলে আনতে চাইছে বিজেপি।
