রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে বাংলার ২২ তম রাজ্যপাল হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছেন আর এন রবি। যদিও তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান লোকভবনে সৌজন্যের নজির গড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা দেখে আপ্লুত নবনিযুক্ত রাজ্যপাল এবং তাঁর স্ত্রী-সহ পরিবারের লোকজন। দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রথম বার্তা মা দুর্গার শরণে রাজ্যপাল আর এন রবি।
সোশাল মিডিয়ায় রবি লেখেন, "বাংলার মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য। ভারতের আধ্যাত্মিক, বৌদ্ধিক এবং সাংস্কৃতিক জীবনের প্রধান কেন্দ্র বাংলা। প্রাচীন বৈদিক জ্ঞানচর্চা বহু শতাব্দী আগে বিকশিত হয়। গৌতম বুদ্ধের বাণীও নতুন ব্যাখ্যা ও রূপ পেয়েছিল। ভক্তি আন্দোলনের ধারাও শক্ত ভিত গড়েছিল। জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। এই মাটিতেই জন্ম নেওয়া চৈতন্য মহাপ্রভু ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে নতুন দিশা দেখিয়েছে।"
তিনি আরও লেখেন, "রামকৃষ্ণ পরমহংস এবং স্বামী বিবেকানন্দের মতো আধ্য়াত্মিক ব্যক্তিত্বকে উপহার দিয়েছে বাংলা। তাঁদের ভাবনা এবং দর্শন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অবদান অবিস্মরণীয়। বন্দেমাতরম একসময় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের শক্তিশালী ডাকে পরিণত হয়।" তাঁর বার্তায় উঠে এসেছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিপ্লবী চিন্তাবিদ ঋষি অরবিন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামও। বাংলার প্রত্যেক মানুষের জন্য মা দুর্গার আশীর্বাদ প্রার্থনা করে বার্তা শেষ করেন নবনিযুক্ত রাজ্যপাল।
আর এন রবি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ছিলেন। ওই রাজ্যে থাকাকালীন একাধিক ইস্যুতে ডিএমকে সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন আরএন রবি। বিশেষ করে একাধিক বিল নিয়ে সংঘাত চরমে ওঠে। আরএন রবিকে রাজ্যপাল পদ থেকে সরানো নিয়ে একাধিকবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে আবেদন জানায় ডিএমকে। এই অবস্থায় এবার বাংলার রাজ্যপাল হিসাবে শপথ নিলেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি।
