ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন আশা ও অঙ্গনওয়ারি কর্মীরা। আগামীকাল বুধবারও আশাকর্মীরা বিক্ষোভ দেখাতে পারেন। এই সংক্রান্ত খবর রয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে। সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটা দাবি করে কর্মীদের একটি রাজনৈতিক দলরে ফাঁদে পা না দেওয়ার কথা বললেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)।
চন্দ্রিমার অভিযোগ, কোনও রাজনৈতিক দল আশাকর্মীদের (ASHA Worker) নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প। কিন্তু কেন্দ্র টাকা দেয় না! রাজ্য সরকারকেই অধিকাংশ খরচ বহন করতে হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর ধাপে ধাপে কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি করছেন বলে জানিয়েছেন চন্দ্রিমা।
২০০৭ সালে আশাকর্মীদের জন্য প্রকল্পটি নিয়ে আসে কেন্দ্রীয় সরকার। ৬০ শতাংশ টাকা কেন্দ্র ও ৪০ শতাংশ রাজ্য সরকার বহন করবে এমনই নিয়ম রয়েছে। ২০০৮ সালে তৎকালীন বাম সরকার রাজ্যে আশাকর্মী নিয়োগ করে। সেই সময় ৮০০ টাকা ভাতা দেওয়া হত। কিন্তু চন্দ্রিমার (Chandrima Bhattacharya) দাবি, বর্তমানে ৫২৫০ টাকা যে ভাতা দেওয়া হয় তা সম্পূর্ণ রাজ্য বাজেট থেকে। তিনি আরও জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ২০১৩ সালে ভাতা ৮০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা করেন। সেই বছরেই আরও দু'শো টাকা বৃদ্ধি করা হয়। ১৭ সালে তা বেড়ে হয় ২০০০ টাকা। ২০১৮ সালে তা হয় ৩ হাজার। বেড়ে বর্তমানে ৫২৫০ টাকা হয়েছে।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে আরও কম টাকা ভাতা দেওয়া হয় দাবি করে মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রদেশে ৪ হাজার টাকা ও উত্তরপ্রদেশে ১৫০০ টাকা দেওয়া হয়। চন্দ্রিমা ভট্টচার্য আশাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আশাকর্মীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সহানুভূতি আছে। বছর বছর ভাতা বৃদ্ধি হয়েছে। ৪২ হাজার মতো মোবাইল দেওয়া হয়েছে। " তিনি আরও বলেন, "আমরা আপনাদের পাশে আছি। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে কেউ ব্যবহার করতে চাইলে, সেই ফাঁদে পা দেবেন না। কেন্দ্রীয় প্রকল্প, কেন্দ্রের বাজেটের সময় কেন আশাকর্মীদের বিষয়ে কথা বলা হয় না?" আরও বলেন, "আমাদের আবেদন শান্ত থাকুন। ভালো করে কাজ করুন। ঠিক সময়ে মুখ্যমন্ত্রী নজর দেন। পরেও দেবেন।"
