ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে সমস্যা। রাতারাতিই জ্বালানি সংকট বেড়ে গিয়েছে। তাই আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করতে নারাজ। বুধবার বিকেলেই গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে সংস্থাগুলির সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, তিনটি তেল সংস্থা ও গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মনে করা হচ্ছে, এই মুহূর্তে সত্যিই সংকট কতটা, তা খতিয়ে দেখতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। বিশেষত ঘরে ঘরে রান্নার গ্যাস নিয়ে যে আচমকা সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধানের উপায় খুঁজতেই গ্যাস ডিলাদের বৈঠকে ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, আলিপুরের সৌজন্য প্রেক্ষাগৃহে এই বৈঠক চলছে। সেখানে রয়েছেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বরাষ্ট্রসচিব। রয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, খাদ্যদপ্তরের সচিব-সহ বহু প্রশাসনিক আধিকারিক।
বুধবার বিকেলেই গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে সংস্থাগুলির সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, তিনটি তেল সংস্থা ও গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
পশ্চিম এশিয়ার ও আরব দুনিয়ার যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়েছে। সময় যত বাড়ছে, ততই তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের দেশগুলিতে। ইতিমধ্যে আক্রান্ত বহু দেশ। এতে সবচেয়ে সমস্যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহ। কারণ আরব দুনিয়া থেকে গোটা বিশ্বে সিংহভাগ তেল সরবরাহ হয় গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধের জেরে বন্ধ সেই হরমুজ প্রণালী। অর্থাৎ জ্বালানি সরবরাহের রাস্তাই পুরোপুরি বন্ধ। আর তাতে সব দেশে জ্বালানির সংকট তৈরি হচ্ছে।
বাংলাতেও অল্পবিস্তর প্রভাব পড়েছে। এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি গ্যাস সরবরাহ ধাক্কা খেয়েছে কিছুটা। বিশেষত পরিবহণ অর্থাৎ অটোর জ্বালানির ভাণ্ডারে ইতিমধ্যে টানাটানি পড়ে গিয়েছে। সেই সমস্যা যাতে গুরুতর আকার না নেয়, সেই উদ্দেশে আগেভাগেই পদক্ষেপ করছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে এনিয়ে আসরে নেমেছেন। তারই অংশ হিসেবে বুধ বিকেলেই তেল সংস্থার কর্তা ও গ্যাস ডিলারদের বৈঠকে ডাকলেন তিনি। প্রথমে বৃহস্পতিবার এই বৈঠক করার কথা ঘোষণা করলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে আজই তড়িঘড়ি আলোচনায় বসলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, ''সংকট কাটাতে আমরা বেশ কয়েকটা পদক্ষেপ নিলাম। ওঁদের (ডিলারদের) সঙ্গে আলোচনা করে যা জানলাম, জ্বালানি তেল নিয়ে এখনও ততটা সমস্যা হয়নি। মূল সমস্যা হচ্ছে এলপিজি গ্যাসে। আমরা বললাম, রাজ্যে যা গ্যাস মজুত আছে, তা আর বাইরে পাঠাবেন না। সমস্যা মিটে গেলে আবার সেটা করতে পারেন। একটা এসওপি বা নির্দেশাবলী তৈরি হবে।''
ঘণ্টাখানেক বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, ''সংকট কাটাতে আমরা বেশ কয়েকটা পদক্ষেপ নিলাম। ওঁদের (ডিলারদের) সঙ্গে আলোচনা করে যা জানলাম, জ্বালানি তেল নিয়ে এখনও ততটা সমস্যা হয়নি। মূল সমস্যা হচ্ছে এলপিজি গ্যাসে। আমরা বললাম, রাজ্যে যা গ্যাস মজুত আছে, তা আর বাইরে পাঠাবেন না। সমস্যা মিটে গেলে আবার সেটা করতে পারেন। একটা এসওপি বা নির্দেশাবলী তৈরি হবে। ওঁদের সঙ্গে কথা বলেই তা হবে। ওঁরা আশ্বাস দিয়েছেন যে স্বাস্থ্যক্ষেত্র, মিড ডে মিল, আইসিডিএস সেন্টারগুলিতে কোনও সংকট হবে না। বলা হয়েছে, সরবরাহ যেন স্বাভাবিক থাকে। আমাদের কথা ওঁরা মেনে নিয়েছেন।বৈঠক ভালো হয়েছে। অযথা কেউ আতঙ্কিত হবেন না। আমি কাল (বৃহস্পতিবার) আবার জেলাগুলির সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠক করব।''
উল্লেখ্য, এ রাজ্যের দুর্গাপুর ও আশপাশে এলপিজি-র বটলিং প্ল্যান্ট রয়েছে। এখান থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা হয় এবং তা গোটা রাজ্যের পাশাপাশি সরবরাহ করা হয় প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও। সেই সিলিন্ডারই এই মুহূর্তে বাইরে না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মাঝে অভিযোগ উঠেছিল, গ্যাস বুকিংয়ের জন্য সংস্থাগুলিতে ফোন করলে কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছিল না। এদিনের বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ''ডিলারদের বললাম যে মানুষ অভিযোগ করছে, আপনারা ফোন ধরছেন না, গ্যাস বুক করতে পারছে না কেউ।'' তাতে ডিলাররা জানান যে তাঁদের সার্ভারে সমস্যা হওয়ায় ফোনে পাননি গ্রাহকরা। তা ঠিক হয়ে গেলে ফের আগের মতোই বুকিং নেওয়া হবে।
