মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ ভারত তথা বাংলার হেঁশেলে। এলপিজির আকাল দেখা দিয়েছে! একলাফে দামও বেড়েছে অনেকটা। কেন্দ্রের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই এই অবস্থা বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিজেপি সরকারকে বিঁধে আগামিকাল, বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকের ডাক দিলেন তিনি।
বুধবার এক বৈদ্যুতিন চ্যানেলকে ফোনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জরুরি বৈঠকের কথা জানান। সেখানে কেন্দ্রের ২৫ দিনের ব্যবধানে গ্যাস বুকিংয়ের সিদ্ধান্তকে বিঁধেছেন মমতা। কেন আগে থেকে সব দিক বিবেচনা না করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। দেশে কত গ্যাস ভাণ্ডার মজুত রয়েছে, তা জানানোর কথা বলেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার যোগান অব্যাহত রাখুক। প্রয়োজনে রাজ্য সরকার অর্থের ব্যবস্থা করবে। এমন অবস্থায় রাজ্য কী কী ব্যবস্থা করতে পারে, তা নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছেন মমতা। কী কী আলোচনা হতে পারে এই বৈঠকে?
হাসপাতালগুলিতে প্রতিদিন রোগীদের জন্য রান্না করা হয়, তা ধাক্কা খাবে। পরিবহণ ব্যবস্থায় ইতিমধ্যেই প্রভাব পড়েছে। ভাড়া বেড়েছে একাধিক অটো রুটে।
কসবা এলাকায় দাঁড়িয়ে অটো। শুভজিৎ মুখোপাধ্যায়
গ্যাসের যোগান কমলে সবার আগে প্রভাব পড়বে প্রতিটি বাড়ির রান্নাঘরে। সাধারণ মানুষের হেঁশেলের ওভেন জ্বলবে না! রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে মিড ডে মিলে রান্নায় প্রভাব পড়েছে। প্রয়োজন অনুসারে গ্যাস পাওয়া না গেলে স্কুলে রান্না বন্ধ হয়ে যেতে পারে। হাসপাতালগুলিতে প্রতিদিন রোগীদের জন্য রান্না করা হয়, তা ধাক্কা খাবে। পরিবহণ ব্যবস্থায় ইতিমধ্যেই প্রভাব পড়েছে। ভাড়া বেড়েছে একাধিক অটো রুটে। সংকটের পরিস্থিতিতে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী কালোবাজারি করে, তা রুখতে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকের কথা জানানোর পাশাপাশি, সংবাদমাধ্যমে মমতা জানান, দেশীয় ভাণ্ডারে কত গ্যাস মজুত রয়েছে তা সংসদের অধিবেশনে ভারত সরকার সেই তথ্য দিক। যত গ্যাস আছে প্রতিটি রাজ্যকে সমান করে ভাগ করে দিতে হবে বলে দাবি করেছেন মমতা। পাশাপাশি গ্যাসের যোগান অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন। প্রয়োজন পড়লে রাজ্যবাসীর কথা মাথায় রেখে অর্থের ব্যবস্থা করবে সরকার।
