নিটের প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল গোটা দেশ। এবার পাল্টা প্রচারের পথে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গেও 'ককরোচ'দের প্রতিহত করতে এবার তৎপর শাসক শিবির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফার্স্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সমাজ মাধ্যমে শুভেন্দু লেখেন, 'যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ। মোদি সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিতে দোষীরা কোনোভাবেই আর রেহাই পাবে না।'
নিট কাণ্ডে বিক্ষোভের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এও জানান, "গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার সবার আছে। তবে ছাত্রদের হস্টেল থেকে জোর জবরদস্তি বের করে আন্দোলনে নামানোর চেষ্টা হলে বরদাস্ত হবে না।"
নিট কাণ্ডে বিক্ষোভের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এও জানান, "গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার সবার আছে। তবে ছাত্রদের হস্টেল থেকে জোর জবরদস্তি বের করে আন্দোলনে নামানোর চেষ্টা হলে বরদাস্ত হবে না।" এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে সতর্ক করা হয়েছে। রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের হুঁশিয়ারি, এ রাজ্যে কোনওরকম অশান্তি পাকানোর চেষ্টা হলে রেয়াত নয়। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ অ্যালার্ট আছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশে অশান্তির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বিজেপি। সেই সঙ্গে অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির কোথায় কত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে, সেই খতিয়ানও তুলে ধরেন তাপস।
নিটের প্রশ্নফাঁস, শিক্ষায় লাগামছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে তোলপাড় রাজধানী। সেই দাবিতে সমর্থন জানিয়ে ২৬ দিনের অনশনে সোনম ওয়াংচুক। সরকার পক্ষের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের এক দফা বৈঠকের পরেও মেলেনি সমাধান সূত্র। এবার সিজেপি-র দাবিতে সমর্থন জানিয়ে শুক্রবার সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই মিছিলে নামতে পারে শুক্রবার। দেশজুড়ে ছাত্র-ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এদিকে শুক্রবার কলকাতায় বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে পুলিশকে ইমেল পাঠানো হয়েছে সিজেপি-র তরফে। তার আগেই নিজেদের কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে দিল বাংলার শাসকদল।
এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক বিমলশঙ্কর নন্দ এবং যুব মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আশিস বিশ্বাসরা প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে সরকারের 'বিচ্যুতি' মেনে নিয়েছেন। তাঁদে বক্তব্য, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত শক্ত রাখতে যা যা করার, কেন্দ্র তা করছে। তবে দিল্লির আন্দলনের সময় সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। তাপসের কথায়, "প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পরে ভারত সরকার যে কঠোর পদক্ষেপ করেছে, তা আগে দেখিনি। তা সত্ত্বেও অশান্তির চেষ্টা! দক্ষিণ এশিয়ার কিছু জায়গায় যে রকম পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, এখানেও তেমন চেষ্টা হচ্ছে। বিদেশ থেকে টাকা ঢুকছে। পশ্চিমবঙ্গে এমন কোনও ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হলে আমরা রেয়াত করব না। পুলিশ, প্রশাসন অ্যালার্ট আছে।"
উল্লেখ্য, প্রশ্নফাঁস নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানিয়েছেন, "এই ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠিত হবে। শুক্রবার কলকাতায় সিজেপি এবং এসএফআই-এর বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কেউ চাইলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতেই পারে। কোনওভাবেই ছাত্রদের উপর গা জোয়ারি করে আন্দোলনে নিয়ে যাওয়া বরদাস্ত করা হবে না।"
