দু'দশকের 'লজ্জা' সত্যিই কেটে গেল! শনিসন্ধ্যায় কলকাতার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রবীন্দ্রসদনে বিখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে স্বাগত জানালেন শহরবাসী। সেই মুহূর্ত আরও বিশেষ হয়ে উঠল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) স্বাগত ভাষণে। লেখিকার উদ্দেশে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মুক্ত বার্তা, ‘‘সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী। আপনি যতবার ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা আসবেন, কথা বলবেন। শৃঙ্খলমুক্ত, বাঁধনমুক্ত পশ্চিমবঙ্গে সবার আসার, বাক স্বাধীনতার সুযোগ আছে। ধমক-চমক অতীত। আজ প্রমাণিত, নতুন সরকারের হাতে বাংলার গণতন্ত্র, সংবিধান, মৌলিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা সুরক্ষিত।''
১ আগস্ট,শনিবার। রবীন্দ্রসদনে তসলিমা নাসরিনকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। নিজস্ব ছবি
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘শৃঙ্খলমুক্ত, বাঁধনমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ। সবার এখানে আসার, সবার বাক স্বাধীনতার সুযোগ রয়েছে। আমাদের প্রিয়, সম্মানীয়া লেখিকা বঙ্গভূমিতে পা রেখেছেন। তাতেই প্রমাণিত, নতুন সরকারের হাতে বাংলার গণতন্ত্র, সংবিধান, মৌলিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা সুরক্ষিত। কোনও ধমক-চমক নয়। সেসব এখন অতীত। নতুন সরকারে শুধু মুখ বদল হয়নি। আরও অনেক বদল হয়েছে। তসলিমা নাসরিন সেসব ভালোই বুঝতে পেরেছেন আশা করি। ওঁকে বলতে চাই, আপনি যতবার খুশি, যখন খুশি আসুন। সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর।''
সেকুলার মিশনের উদ্যোগে তসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasrin) কলকাতায় 'ফেরা' বড় উদযাপনই বটে। শনিবার বিকেলে রবীন্দ্রসদনে সেই উদযাপনের অপেক্ষায় ছিল সাংস্কৃতিক মহল। তসলিমাকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা নজরে পড়ে। সন্ধ্যা নাগাদ লেখিকা সেখানে পা রাখতেই বোঝা গেল দু'দশক ধরে কতটা তৃষ্ণা বুকের ভিতর জমিয়ে রেখেছিল এ শহর। তুঁতে বালুচরী, লাল টিপে 'বঙ্গকন্যা'র মুখেও তখন প্রশান্তির বিচ্ছুরণ! কিছুক্ষণ পর রবীন্দ্রসদনে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চে তসলিমাকে স্বাগত জানান, দেওয়া হয় নাগরিক সংবর্ধনা। সাহিত্যসম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ছবি তুলে দেওয়া হয় লেখিকার হাতে। এরপর 'দ্বিখণ্ডিত' স্রষ্টার ছবি খোদাই করা একটি রুপোর মেডেল নাগরিকদের তরফে উপহার হিসেবে তাঁর হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
১ আগস্ট, শনিবার। রবীন্দ্রসদনে তসলিমা নাসরিনকে নাগরিক সংবর্ধনা। ছবি খোদাই করা রুপোর মেডেল উপহার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। নিজস্ব ছবি
এরপর সংক্ষিপ্ত ভাষণে আসল বার্তা দিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‘শৃঙ্খলমুক্ত, বাঁধনমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ। সবার এখানে আসার, সবার বাক স্বাধীনতার সুযোগ রয়েছে। আমাদের প্রিয়, সম্মানীয়া লেখিকা বঙ্গভূমিতে পা রেখেছেন। তাতেই প্রমাণিত, নতুন সরকারের হাতে বাংলার গণতন্ত্র, সংবিধান, মৌলিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা সুরক্ষিত। কোনও ধমক-চমক নয়। সেসব এখন অতীত। নতুন সরকারে শুধু মুখ বদল হয়নি। আরও অনেক বদল হয়েছে। তসলিমা নাসরিন সেসব ভালোই বুঝতে পেরেছেন আশা করি। ওঁকে বলতে চাই, আপনি যতবার খুশি, যখন খুশি আসুন। সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর।'' তসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasrin) জন্য কবিতা লিখেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, সেই কবিতা তিনি পড়ে শোনান।
