Advertisement
'স্বাধীন চিন্তাকে বন্ধক নয়', আজও আপন মতে অনমনীয় তসলিমা মন জয় করলেন তিলোত্তমার
অন্তরের রুদ্ধদ্বার খুলে দু'দশকের নির্বাসিত লেখিকা বললেন, 'ইউরোপে নাগরিকত্ব পেয়েছি, আপনত্ব নয়।'
১৯ বছর পর ঘরে 'ফেরা'। এই ফিরে আসা স্রেফ আসা-যাওয়া নয়। এ এক জন্মান্তরের সাক্ষ্যও বটে। তা মনে মনে জানতেন তসলিমা নাসরিন। ক্যালেন্ডারের পাতায় ১ আগস্ট, তাঁর জন্মমাসে, নির্বাসনের মাসে আরও এক চিরস্মরণীয় দাগ কেটে গেল। কলকাতায় আবার এসেছেন লেখিকা। এসেছেন পুরনো চেনা শহরে। এসেছেন এক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে। শনিবার রবীন্দ্রসদনে প্রাণ খুলে সেকথা প্রকাশ করলেন তসলিমা। ছবি: পিন্টু প্রধান
শনিবার গোধূলিবেলায় শহরের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রবীন্দ্রসদনে তসলিমা নাসরিনের উপস্থিতি যেন রাস্তাজুড়ে জ্বলতে থাকা হাজার ওয়াটের আলোকেও হার মানায়! এ-ই বুঝি কাছে টেনে নেওয়ার সংকেত! রবীন্দ্রসদনে তসলিমাকে স্বাগত জানিয়ে উত্তরীয় পরিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা সেকুলার মিশন ঠিকই। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই অনুষ্ঠান যে প্রায় অসম্ভব ছিল, তা জানেন সকলে। ছবি: পিন্টু প্রধান।
তুঁতে বালুচরী, লাল টিপে 'বঙ্গকন্যা'র মুখেও তখন প্রশান্তির বিচ্ছুরণ! কিছুক্ষণ পর রবীন্দ্রসদনে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চে তসলিমাকে স্বাগত জানান, দেওয়া হয় নাগরিক সংবর্ধনা। সাহিত্যসম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ছবি তুলে দেওয়া হয় লেখিকার হাতে। নাগরিকদের তরফে দেওয়া হয় তাঁর মুখ খোদাই করা একটি রুপোর মেডেলও। উপহার পাওয়া তসলিমার উজ্জ্বল মুখেই স্পষ্ট, তাঁর অন্তরের আনন্দ। ছবি: পিন্টু প্রধান।
প্রিয় লেখিকাকে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা, ‘‘শৃঙ্খলমুক্ত, বাঁধনমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ। নতুন সরকারের হাতে বাংলার গণতন্ত্র, সংবিধান, মৌলিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা সুরক্ষিত। কোনও ধমক-চমক নয়। নতুন সরকারে শুধু মুখ বদল হয়নি। আরও অনেক বদল হয়েছে। আপনি যতবার খুশি, যখন খুশি আসুন। সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর।'' ছবি: পিন্টু প্রধান।
ঝরঝরে গদ্য আর শেল বেঁধানো কবিতার মতো তসলিমার বক্তব্যও অতি প্রাঞ্জল অথচ দৃঢ়। রবীন্দ্রসদনের অনুষ্ঠানেও তাঁর কণ্ঠে সেই মেজাজ। উঠে এল কলকাতা থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণায় প্রতি মুহূর্তে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার কথা।বললেন, “অন্যায় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, চিরস্থায়ী নয়। ইতিহাস মনে রাখে কারা দরজা বন্ধ করেছিল, কারা খুলল।” কাদের একথা বললেন 'দ্বিখণ্ডিত' লেখিকা? উত্তর অজানা নয়। ছবি: পিন্টু প্রধান।
উত্তরের প্রত্যাশা না করে প্রিয় কলকাতার প্রতি তসলিমার প্রশ্ন, “আমি কতবার মনে মনে প্রশ্ন করেছি কলকাতাকে, আমি তোমার কী ক্ষতি করেছিলাম? কেন আমাকে চলে যেতে হল? আমি উত্তর চাইতে আসিনি। আজ বলতে এসেছি, আমি ফিরেছি। চলে যাওয়া আর ফিরে আসার মাঝের ১৯ বছর আমাকে কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে না।” ছবি: পিন্টু প্রধান।
যে মুসলিম মৌলবাদ তসলিমার আজীবনের প্রতিদ্বন্দ্বী, তা নিয়ে শোধনবাদের বার্তা দিলেন।তাঁর কথায়, “মুসলিম সমাজে মুক্তচিন্তাধারার মানুষের সংখ্যা বাড়ুক। মানবিকতার সংখ্যা বাড়ুক। আমরা যাঁরা সমালোচনা করি তা ধ্বংসের জন্য নয়, উন্নতির জন্য। ক্যালেন্ডার এগোলেই সমাজ আধুনিক হয় না। রাষ্ট্র চিন্তাকেও আধুনিক হতে হয়। শিক্ষা নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল দেশের প্রগতি।” ছবি: পিন্টু প্রধান।
স্বদেশ, তা সে যতই দূরে ঠেলে দিক, আপন মাটির অনুভূতি তো থাকবেই। দেশের সন্তান হিসেবে দায়িত্ববোধও থাকবে। তাই বাংলা তসলিমার বার্তা, সাম্প্রদায়িকতার অন্ধকারে ডুবে থাকা বাংলাদেশেও একদিন রাষ্ট্র ও ধর্ম পৃথক হবে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিরাপদে বাস করবে।নারী পুরুষ সমানাধিকার পাবে। নাস্তিক ও মুক্ত চিন্তকরা নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই রাস্তায় হাঁটবে। ছবি: ফেসবুক।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 09:24 PM Aug 01, 2026Updated: 09:28 PM Aug 01, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
