স্বাস্থ্যভবনে সারপ্রাইজ ভিজিট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। বৃহস্পতিবার সকালে আচমকা তিনি স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন দেখেন। এই কন্ট্রোল রুম থেকেই সরাসরি রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে নজরদারি চালানো হবে। লাইভ মনিটরিংয়ে ফলে হাসপাতালে দালালচক্র রোখা সম্ভব হবে বলে জানান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "কোনও দালালকে আজ হাসপাতালে দেখা গেলে কাল আর তাঁকে দেখা যাবে না।"
এদিন নবান্নতে যাওয়ার আগে আচমকা স্বাস্থ্যভবনে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আধিকারিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও। স্বাস্থ্যভবন থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যভবনে একটি কন্ট্রোল রুম তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে হাসপাতালগুলিতে লাইভ মনিটরিং করা হবে। ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে মহকুমা হাসপাতালগুলিতেও শুরু হবে নজরদারি। হাসপাতালগুলিতে দালালচক্র রুখতে এই উদ্যোগ কার্যকর। তিনি জানান, রোগী কখনও দু'দিন পর পর হাসপাতালে যাবে না। তাই দালালদের সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
এছাড়া সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিষেবা উন্নয়নে জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য নজরদারির প্রয়োজন বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। কিচেন থেকে পার্কিং লটগুলিও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি আশাবাদী, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর পরিবেশ বদলাবে। শুভেন্দু আরও জানান, রোগীদের খাবারের জন্য বরাদ্দ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ৫৪ টাকা থেকে ১১০ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে বেড়েছে খাবারের মান। প্রান্তিক মানুষের জন্যই হাসপাতালগুলির পরিষেবা উন্নতির কথা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। কারণ কোনও নেতা-মন্ত্রী-আধিকারিকরা সরকারি হাসপাতালে যায় না।
শুভেন্দু জানান, ভারত সরকার হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান মন্দির নাম দিয়েছে। মন্দিরে যেমন পরিত্রতা, সুদ্ধতা, স্বচ্ছতা, একাগ্রতা, সেবাপরায়নতা থাকে সেরকমই হাসপাতালগুলিতেও থাকবে। স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সুরক্ষা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। অনেক সময় খবরে শোনা যায়, যে কর্মীর ট্রলি নিয়ে যাওয়ার কথা তিনি ইনজেকশন দিয়েছেন। আবার যাঁর নিরাপত্তা দেওয়ার কথা তিনি রোগীর সেলাই করে ফেলেছেন। এই ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে এবং কাজের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য কর্মীদের চিহ্নিত করতে বিভিন্ন রঙের ব্যাজ দেওয়া হবে।
তারাতলার মতো কোনও বিপর্যয় ঘটলে দ্রুত পরিষেবার প্রয়োজন হয়। তাই ১ মিনিটে ২৫০ জনকে প্রাথমিক পরিষেবা দিতে পারে এরকম একটি ট্রমা সেন্টার তৈরি হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের বেড সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। বাড়বে আইসিইউ বেডের সংখ্যাও। রাজ্যে বার্ন ইউনিটের পরিষেবা অত্যন্ত দুর্বল বলে মেনে নেন শুভেন্দু। সেগুলি আরও ভালো করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিউটাউনে আদানি গ্রুপ একটি ২ হাজার বেডের হাসপাতাল তৈরি করছে। তার মধ্যে ১ হাজার বেড থাকবে গরিব, প্রান্তিক মানুষের জন্য। শীঘ্রই এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে বলে জানান শুভেন্দু।
