উলটো রথ উপলক্ষ্যে ভবানীপুরে প্রভু জগন্নাথদেবের পুজো করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। শুক্রবার দুপুরে নিজের হাতে জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও শুভদ্রার আরতি করেন তিনি। জগন্নাথ মন্দিরেই তাঁকে লাল-সাদা রঙের পাগড়ি পরিয়ে দেন সেবায়েত। এদিন মায়াপুরে মহাসমারোহে উলটো রথ পালন করে ইসকন।
৭ দিন মাসির বাড়ি অবস্থানের পর ভাই বলভদ্র ও ভগিনী সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে নিজে বাড়িতে ফেরেন প্রভু জগন্নাথদেব। এই শুভক্ষণকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশ থেকে আগত অসংখ্য ভক্তের সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে উঠল মায়াপুর। এদিন সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে বিশেষ পুজো, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, হরিনাম সংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুপুর আনুমানিক ১টা নাগাদ গুন্ডিচা মন্দির থেকে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী পাহন্ডি বিজয়। সেখান থেকে একে একে প্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহ তিনটি সুসজ্জিত রথে আরোহণ করানো হয়। রথে বিরাজমান হওয়ার পর আরতি, কীর্তন এবং বিভিন্ন বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
এরপর বেলা আনুমানিক ৩টা নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় উলটোরথ যাত্রা। হাজার হাজার ভক্ত "হরিবোল" ও "জয় জগন্নাথ" ধ্বনির মধ্যে রশি টেনে রথকে মূল মন্দিরের উদ্দেশে নিয়ে যান। ভক্তদের উচ্ছ্বাস, কীর্তনের ধ্বনি ও আধ্যাত্মিক আবহে উৎসব প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। উৎসব উপলক্ষে ইসকন মায়াপুর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভক্তদের জন্য বিশেষ প্রসাদ বিতরণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তদের উপস্থিতিতে মায়াপুর ধাম এদিন পরিণত হয় এক মিলনক্ষেত্রে। প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে প্রতি বছরের মতো এবারও ইস্কন মায়াপুরে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় উৎসাহের মধ্য দিয়ে এই মহোৎসব পালিত হল।
