shono
Advertisement
Cabinet ministers

'গয়ংগচ্ছ মনোভাব নয়, লাল ফিতের ফাঁস কাটান দ্রুত', নতুন মন্ত্রীদের ক্লাস নিলেন শুভেন্দু

শনিবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশিক্ষণ শিবিরে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, উপদেষ্টাও।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 09:15 PM Jun 13, 2026Updated: 09:15 PM Jun 13, 2026

টাটকা নতুন মুখ নিয়ে নিজের মনমতো মন্ত্রিসভা তৈরি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল, সুন্দরবঙ্গ থেকে খাস কলকাতা - রাজ্যের সব প্রান্তের, সর্বস্তরের বিধায়করা মন্ত্রীর চেয়ারে আসীন। কেউ কেউ প্রথমবার বিধায়ক হয়েই মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন। আবার কেউ কেউ জনপ্রতিনিধি হিসেবে খানিকটা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করলেও প্রশাসনিক কাজ কীভাবে চালাতে হয়, সে বিষয়ে তেমন জ্ঞান নেই। ফলে তাঁদের সকলকে এক ছাদের নিচে এনে ক্লাস নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বঘোষণামতো শনিবার সল্টলেকে সেই প্রশিক্ষণ হয়ে গেল। ৪০ জন মন্ত্রীকে একটাই বার্তা দিলেন শুভেন্দু। গয়ংগচ্ছ মনোভাব ছেড়ে লাল ফিতের ফাঁস কাটিয়ে দ্রুত কাজ করতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হলে আলোচনা করতে হবে সচিব ও দপ্তরের অভিজ্ঞ আধিকারিকদের সঙ্গে।

Advertisement

কীভাবে দপ্তরের কাজ করতে হবে, তা বিশদে সকলকে বোঝান শুভেন্দু অধিকারী। জানান, প্রত্যেক দপ্তরের সচিবদের থেকে নিয়মিত কাজ বুঝে নিতে হবে। দপ্তরে জমা পড়া ফাইল ফেলে রাখলে হবে না। নিয়মিত তা গুরুত্ব সহকারে দেখে যত দ্রুত সম্ভব সইসাবুদ করে কাজ করে দিতে হবে। ফাইলের পাহাড় যাতে না জমে, সরকারি দপ্তর সম্পর্কে 'আঠারো মাসে বছর'-এর মতো আপ্তবাক্য যাতে আর শোনা না যায়, সেদিকে অত্যন্ত মনোযোগ দেওয়ার কথা তিনি বলেন প্রত্যেক মন্ত্রীর উদ্দেশে।

রাজ্য মন্ত্রিসভায় একমাত্র শুভেন্দু অধিকারী এবং তাপস রায়ের দপ্তর সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তৃণমূল জমানায় শুভেন্দু নিজে একাধিক দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। এখন বিজেপি সরকারে তিনি মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে নিজের হাতে একাধিক দপ্তর। তাপস রায় তৃণমূলে থাকাকালীন পরিষদীয় দল সামলেছেন দীর্ঘদিন। এখন তিনি রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী। কিন্তু এই দু'জনকে বাদ দিলে রাজ্য মন্ত্রিসভার বাকি ৩৯ জনই একেবারে নতুন। স্বপন দাশগুপ্ত, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়রা রাজনীতিতে অভিজ্ঞ হলেও প্রশাসনিক কাজকর্মে এই প্রথম। এছাড়া শিক্ষাদপ্তরের মন্ত্রী দীপক বর্মন, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় থেকে কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল, আবাসন প্রতিমন্ত্রী কলিতা মাজি দপ্তরের কাজ চালাতে গিয়ে হোঁচট যাতে না খান, তার জন্য সবাইকে নিয়ে শনিবার প্রশিক্ষণ দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ও মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তও।

মুখ্যমন্ত্রীর 'ক্লাসে' নতুন মন্ত্রীরা। ছবি: পিণ্টু প্রধান

কীভাবে দপ্তরের কাজ করতে হবে, তা বিশদে সকলকে বোঝান শুভেন্দু অধিকারী। জানান, প্রত্যেক দপ্তরের সচিবদের থেকে নিয়মিত কাজ বুঝে নিতে হবে। দপ্তরে জমা পড়া ফাইল ফেলে রাখলে হবে না। নিয়মিত তা গুরুত্ব সহকারে দেখে যত দ্রুত সম্ভব সইসাবুদ করে কাজ করে দিতে হবে। ফাইলের পাহাড় যাতে না জমে, সরকারি দপ্তর সম্পর্কে 'আঠারো মাসে বছর'-এর মতো আপ্তবাক্য যাতে আর শোনা না যায়, সেদিকে অত্যন্ত মনোযোগ দেওয়ার কথা তিনি বলেন প্রত্যেক মন্ত্রীর উদ্দেশে। মন দিতে তাঁর কথা শোনেন সকলে। এছাড়া নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে প্রশাসনিক কার্যপদ্ধতির খানিকটা ব্যাখ্যা করেন মনোজ আগরওয়াল, সুব্রত গুপ্তও। সবমিলিয়ে, সরকারি দপ্তরগুলিতে কাজের গতি ত্বরান্বিত করতে জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। ক্লাস শেষে মন্ত্রীরা জানান, অনেক ধারণাই পরিষ্কার হল। যেটুকু আবছায়া রইল, তা কাজ করতে করতেই স্পষ্ট হবে বলে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দুর টিম।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement