মাটির পুতুলে রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনী! ৯৬টি দেশের ১,১০০-এরও বেশি পুতুল। ৩০০টি মূর্তি নিয়ে ‘গণেশ গ্যালারি’। সব মিলিয়ে শিশুদের জন্য সেরা ঠিকানা নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়াম। শুধু বাচ্চাদের কাছে নয়, অভিভাবকদের কাছেও কলকাতার অন্যতম আর্কষণ। সেই নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়াম বন্ধের মুখে। তা বাঁচাতে তৎপর হল মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর। সিএমও অফিস যোগাযোগ করল ডিরেক্টর সুদীপ শ্রীমালের সঙ্গে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তর সঙ্গে দ্রুত কথা বলা হবে। প্রাথমিক কথা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গেও। এই ঐতিহ্যশালী মিউজিয়াম বন্ধ হওয়া রুখতে সব রকম কথা বলা হবে জানিয়েছেন মিউজিয়ামের ডিরেক্টর সুদীপ শ্রীমাল। তিনি বলেন, "সুব্রত গুপ্তের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হবে। শমীকবাবুর সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে।"
আগস্ট মাসের ১৬ তারিখ থেকে এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বুড়িয়ে যাওয়ায়, তা দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন! কিন্তু সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মিউজিয়াম একা বহন করতে পারবে না! তাই কোনওরকম ঝুঁকি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুলাই মাসে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, ডিরেক্টর সুদীপ শ্রীমাল রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন, সরকার এই সংস্থা 'টেকওভার' করলে তারা সবরকম সাহায্য করবে। সেই প্রস্তাবের পর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে মিউজিয়ামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দ্রুতই সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালের ২২ ডিসেম্বরে ৯৯ বছরের লিজ নেওয়া জমিতে মিউজিয়ামটি তৈরি হয়েছে। ১৯৭২ সালের ১৪ নভেম্বর তা চালু হয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশংকর রায় উদ্বোধন করেছিলেন। ৯৬টি দেশের ১,১০০-এরও বেশি পুতুল ও প্রায় ৩০০টি মূর্তি নিয়ে ‘গণেশ গ্যালারি’ রয়েছে এই মিউজিয়ামে। এই মিউজিয়ামটি পরিচালনা করে ‘ন্যাশনাল কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন’।
