তৃণমূল জমানায় পরপর ৩ বছর অর্থ সাহায্য থেকে বঞ্চিত সরকারি স্কুলগুলি। ডবল ইঞ্জিনের আমলে এবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও আধা সরকারি স্কুলগুলির জন্য অর্থ সাহায্য ঘোষণা করল শুভেন্দুর সরকার। রাজ্যের মোট ৮০ হাজার ৩৭৫ স্কুলে ২৯৬ কোটি টাকা অর্থ সাহায্য করবে রাজ্য সরকার। কম্পোজিট স্কুল গ্র্যান্ট ফান্ডে অর্থ সাহায্য দেওয়া হবে সরকারি ও আধা সরকারি স্কুলগুলিকে।
এদিন নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা বলেন, "গত সরকারের আমলে রাজ্যের স্কুলে শিক্ষার মান কমেছে। নতুন সরকারের আমলে রাজ্যে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথভাবে শিক্ষাব্যবস্থার হাল ফেরাতে উদ্যোগী। আমরা উচ্চশিক্ষা বিভাগ আলাদা করেছি। ভারত সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য।" তিনি আরও জানান, "রাজ্যে শিক্ষার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, ছাত্রছাত্রীদের স্কুল মুখী করা এবং প্রতিযোগিতার যুগে বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার সমতুল্য করতে না পরালে অভিভাবকরা বেসরকারি স্কুলের দিকে ঝুঁকবেন। তাই সরকারি স্কুলগুলিকে সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।" নতুন সরকারের আমলে স্নাতকে ভর্তির হার বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন, "এরাজ্যে শিক্ষার বাজারিকরণ বা পণ্য হিসেবে ব্যবহার করার মতো সুপ্ত চক্রান্ত হয়েছে গত সরকারের আমলে। জয়েন্ট এন্ট্রান্সের পর বহু ছাত্রছাত্রীরা বাইরে চলে যায়। মেধার ভিত্তিতে দ্রুত ভর্তি ব্যবস্থা চালু করায় উচ্চ মাধ্যমিকের পরে ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। মাধ্যমিকের পরেও ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। বিজেপি সরকারের আমলে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষিত করতে পারলে কর্ম সংস্থানও বাড়বে।"
শুভেন্দু জানান, "পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা পোর্টালে সরকারি স্কুলগুলিতে অডিও-ভিসুয়াল শিক্ষা। দীক্ষা প্ল্যাটফর্মে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ৩ লক্ষ শিক্ষক দীক্ষা পোর্টালে নথিভুক্ত হয়েছেন ইতিমধ্যেই। ১ হাজার মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক স্কুলে অটল ল্যাবরেটরি, ৮০০ স্কুলকে 'পিএমশ্রী'-র আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি প্রান্তিক এলাকার স্কুলগুলিতেও সোলার প্যানেল, ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ, গ্যাসে মিড ডে মিল রান্না, শৌচালয় নির্মাণ, পানীয় জল, সরকারি স্কুলে ফ্যান দেওয়ার কর্মসূচি গুলি সম্পন্ন করবে সরকার।"
জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে আগামীদিনে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটবে বলে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। বিদ্যালয় পরিচালন কমিটিতে অভিভাকবদের যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির আধুনিকীকরণে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানান শুভেন্দু। তিনি জানান, "পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা পোর্টালে সরকারি স্কুলগুলিতে অডিও-ভিসুয়াল শিক্ষা। দীক্ষা প্ল্যাটফর্মে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ৩ লক্ষ শিক্ষক দীক্ষা পোর্টালে নথিভুক্ত হয়েছেন ইতিমধ্যেই। ১ হাজার মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক স্কুলে অটল ল্যাবরেটরি, ৮০০ স্কুলকে 'পিএমশ্রী'-র আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি প্রান্তিক এলাকার স্কুলগুলিতেও সোলার প্যানেল, ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ, গ্যাসে মিড ডে মিল রান্না, শৌচালয় নির্মাণ, পানীয় জল, সরকারি স্কুলে ফ্যান দেওয়ার কর্মসূচি গুলি সম্পন্ন করবে সরকার।"
এদিন নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শীঘ্রই রাজ্যে আসবেন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। পরবর্তী সময়ে শিক্ষাব্যবস্থার হাল ফেরাতে একাধিক আলোচনা হবে। সেই মতো ধাপে ধাপে উন্নয়নের পথে এগোবে সরকার। প্রত্যেক জেলায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের তরফে জমি প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
