তারাতলা কাণ্ডে (Taratala Factory Collapse) কালো তালিকাভুক্ত করা হল নির্মাণ সংস্থা আয়ান ট্রেডার্স ও আর্কিটেক্টকে। শুক্রবার পিডব্লুউবি টেন্ট থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, "প্ল্যান পাশ করা ছিল। নির্মাণকারী সংস্থার নজরদারির কথা ছিল। কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব পালন করেনি। সেই কারণেই নির্মাণ সংস্থা ও আর্কিটেক্টকে ব্ল্যাকলিস্টেট করা হল।" পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, আজই শেষ হয়ে যাবে উদ্ধারকাজ।
তারাতলার 'তাসের ঘরে' ত্রাতা সেনাই। ছবি: অমিত মৌলিক
শম্ভুনাথ বেহরা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩০ বছরের লিজে তারাতলার জমি নিয়েছিলেন। গোডাউন নির্মাণ সংস্থা বেহরা ব্রাদার্স নির্মাণের জন্য বন্দর এলাকার আয়ান ট্রেডার্সকে বরাত দিয়েছিল। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, নির্মাণ সংস্থা ও আকিটেক্টকে কালো তালিকাভুক্ত করা হল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "প্ল্যানার ও আর্কিটেক্টের নজরদারির দায়িত্ব ছিল। ওদের আমরা ব্ল্যাকলিস্টেট করছি। প্ল্যান পাশ হয়েছিল। সংস্থার দায়িত্ব ছিল নজরদারি চালানো। ওরা সেই দায়িত্ব অন্যকে দেয়। কিন্তু তারাতলায় কোনও নজরদারি হয়নি। নিশ্চিন্তে থাকুন যারা এই ঘটনার নেপথ্যে কাউকে রেয়াত করা হবে না।" এরপরই তিনি বলেন, "এটাই শুরু। এভাবে যারা কাজ করছেন, পুরসভার তরফে সকলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।" সেখানেই শুভেন্দু বলেন, "কলকাতা বা সংলগ্ন এলাকায় যারা প্ল্যান নিয়ে প্রতারিত হয়েছেন, তাঁরা নিকটবর্তী থানায় অভিযোগ জানান। আমরা অ্যাকশন নেব।" পোস্তা, গার্ডেনরিচ প্রসঙ্গ তুলে এদিন পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তারাতলা বিপর্যয়স্থলে এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। নিজস্ব চিত্র
উল্লেখ্য, বুধবার বেলা ১২ টা বেজে ৭ মিনিটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন। তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজে নামে পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ ও সেনা। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত আটকে পড়া শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা করা হয়। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত তারাতলা কাণ্ডে মৃতের সংখ্যা ১৫। আহত হয়েছেন ৩৩ জন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আজ অর্থাৎ শুক্রবারই শেষ হবে উদ্ধারকাজ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫ জনকে।
