shono
Advertisement
West Bengal Assembly Election 2026

শূন্যের গেরো কাটাতে মরিয়া আলিমুদ্দিন, মানুষের কথা শুনতে 'শ্রোতা' নেতারা

অলিগলিতে, মহল্লায় এবার ছোট বৈঠকে সিপিএম।
Published By: Sayani SenPosted: 01:31 PM Jan 15, 2026Updated: 02:29 PM Jan 15, 2026

সিপিএম ফের পুরনো ছকেই আমজনতার সমর্থন পেতে মরিয়া। ভোটে শূন্যের গেরো কাটাতে নেতাদের শ্রোতার ভূমিকায় রাখছে আলিমুদ্দিন। ভাষণবাজি নয়, পাড়ায় বসে মানুষের কথা শুনতে হবে। আমজনতার কাছ থেকে তাদের মত নিতে হবে। অলিগলিতে, মহল্লায় এবার ছোট বৈঠকে সিপিএম। যেখানে বক্তা আমজনতা, শ্রোতা পার্টির স্থানীয় নেতারা। চলতি মাসেই এভাবে ২৫ হাজার বৈঠক করে নিতে চাইছে সিপিএম। ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা বামেদের দিক থেকে আজ বাংলার মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সিপিএম নেতাদের ভাষণবাজিতে আগ্রহ নেই জনতার। তাই জনতার মাঝে গিয়ে তাদের কথা শোনার সিদ্ধান্ত আলিমুদ্দিনের। ছাব্বিশের নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে এমনই কৌশল নিয়ে ভোটবাক্সে সমর্থন আদায়ে নেমে পড়েছে সিপিএমের শাখা ও এরিয়া কমিটি।

Advertisement

সম্প্রতি কোচবিহার থেকে শুরু হয়ে উত্তর ২৪ পরগনা পর্যন্ত বাংলা বাঁচাও যাত্রা করেছে সিপিএম। শূন্যের গেরো কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে বাংলা বাঁচাও যাত্রায় গ্রামবাংলাই লক্ষ্য ছিল সিপিএমের। পাশাপাশি জনসংযোগ ও বুথের কর্মী-সমর্থকদের ছাব্বিশের ভোটের আগে চাঙ্গা করা। একইসঙ্গে জানান দেওয়া পার্টির অস্তিত্ব। সেই লক্ষ্যেই স্থানীয় থেকে রাজ্যভিত্তিক বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে আজ ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৭ ডিসেম্বর কামারহাটিতে শেষ হয়েছিল যাত্রা। আর তারপরই মানুষের ফিডব্যাক নিতে একেবারে পাড়ায় পাড়ায় নেমে পড়ল সিপিএম। 'পাড়া বৈঠক' সিপিআইএমের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বাম আমলে সিপিএম-এর অন্যতম জনপ্রিয় কর্মসূচি ছিল এই পাড়া বৈঠক'। যেখানে পাড়ায়-পাড়ায় গিয়ে জনসংযোগ করতেন সিপিএম নেতা-নেত্রীরা। পাড়ার একটি বাড়িতে আলোচনায় বসতেন নেতৃত্ব। সেখানে উপস্থিত হতেন পাড়ার সাধারণ মানুষ।

এলাকার কী কী সমস্যা? এই সমস্যা সমাধানের কী উপায়? যাবতীয় সব কিছু আলোচনা হত সেখানে। এক কথায় নিবিড় সংযোগ চলত এই বৈঠকে। কিন্তু রাজপাট চলে যাওয়ার পর জনসমর্থন তলানিতে, নিচুতলায় সংগঠনও নেই। কর্মী-সমর্থকদের দেখা মেলে না। ক্ষমতা হারানোর পর এই পাড়া বৈঠক কবেই গিয়েছে উবে। শেষ কবে এই বৈঠক হয়েছে মনে করা দায়। ছাব্বিশের ভোটের আগে সেই কর্মসূচিতে নেমে পড়ল পার্টি। ঠিক হয়েছে, (এক) ১০ থেকে ১৫ জন মানুষ থাকলেও হবে। কোনও ছোট বক্স থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। (দুই) একদম কোনও চায়ের দোকানের সামনে বা কারও বাড়ির রকে বা গলির মধ্যে জমায়েত করা। (তিন) বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাড়া বৈঠকে আসার আমন্ত্রণ আগেভাগে জানিয়ে আসা। (চার) সেই বৈঠকে পার্টির স্থানীয় শাখা কমিটির দু-একজন পরিচিত মুখ থাকবে। বা কোথাও এরিয়া কমিটির কেউ থাকতে পারে। (পাঁচ) নেতাদের কোনও ভাষণ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ বা সেই এলাকার বাসিন্দাদের মনোভাব বুঝতে হবে।

তবে আপাতত দশ হাজার জায়গায় এই পাড়া বৈঠক সফল করতে গিয়েও হোঁচট খেতে হচ্ছে সিপিএমকে। কারণ নিচুতলায় সংগঠনের জোর নেই। আমজনতাও সেভাবে উৎসাহী নয় এই বৈঠকে যোগ দিতে। মুখ চেনা হাতেগোনা সেই পুরনো সমর্থকরাই আসছেন। তবুও এই পাড়া বৈঠক থেকে মানুষের কথা শুনে, সিপিএম পার্টি সম্পর্কে তাঁদের বর্তমান ধারণা শুনে সেই রিপোর্ট শীর্ষ কমিটিকে দেবে সিপিএমের শাখা কমিটি। সেটা বুঝেই আবার বুথস্তরে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক হবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement