shono
Advertisement

অঙ্গ প্রতিস্থাপনেও শেষরক্ষা হল না, মৃত্যু হল মধুমিতা বিশ্বাসের

গ্রিন করিডরে অঙ্গ এসেছিল মাত্র ১৩ মিনিটে। The post অঙ্গ প্রতিস্থাপনেও শেষরক্ষা হল না, মৃত্যু হল মধুমিতা বিশ্বাসের appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 09:16 AM Nov 11, 2017Updated: 01:30 PM Sep 25, 2019

স্টাফ রিপোর্টার: বিকেল ৪.৪২ থেকে ৪.৫৫। মাত্র তেরো মিনিট। আর এন টেগোর হাসপাতাল থেকে এসএসকেএম(পিজি) হাসপাতাল। মুকুন্দপুর থেকে ভবানীপুর। শুক্রবার বিকেলে পাইলট কার সামনে নিয়ে গ্রিন করিডর ধরে পিজিতে পৌঁছে গিয়েছিল একটি কিডনি ও লিভার। ফের শহরে গ্রিন করিডর গড়ে দান করা অঙ্গ প্রতিস্থাপিত হয়েছিল মুমূর্ষুর শরীরে। চলতি বছরে এটাই প্রথম সফল অঙ্গদান। এমনটাই ভেবেছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। শনিবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল মধুমিতা বিশ্বাসের।

Advertisement

মধুমিতাকে দেওয়া হয়েছিল সাঁতরাগাছির সুলতানপুরের বাসিন্দা কল্যাণী সরকারের কিডনি ও লিভার। ২৮ অক্টোবর স্ট্রোক হয়ে বাথরুমে পড়ে যান কল্যাণীদেবী। স্বামী দিলীপ সরকার রেলে চাকরি করতেন। সেই সূত্রে কল্যাণীদেবীকে গার্ডেনরিচের বিএনআর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে আর এন টেগোর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় কল্যাণীদেবীকে। ভেন্টিলেশনেই ছিলেন ৫৭ বছরের এই গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার ডাক্তারবাবুরা বুঝতে পারেন কল্যাণীদেবীকে বাঁচানো মুশকিল। ক্রমশ ব্রেন ডেথের পথে এগোচ্ছেন তিনি। সেই সময়ই হাসপাতালের সঙ্গে অঙ্গদানের বিষয়টি নিয়ে পরিবার আলোচনা শুরু করে। কল্যাণীদেবীর ছেলে দীপ্তেশ জানান, ‘মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিল, মৃত্যুর পর তিনি অন্য কারও মধ্যে বেঁচে থাকবেন। তার স্বপ্নপূরণেই অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

[শীতের আগে জীবাণুদের হাত থেকে মুক্তি পাবেন কীভাবে?]

এরপরই শুরু হয় যুদ্ধ। শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ স্বাস্থ্য দপ্তরের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য অধিকর্তা (প্রশাসন) ডা. অদিতিকিশোর সরকারকে ফোন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অদিতিবাবু ব্রেন ডেথ থেকে অঙ্গদান গোটা প্রক্রিয়াটি জানিয়ে দেন। তৈরি থাকতে বলেন এথিক্যাল কমিটিকেও। সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ স্বাস্থ্যভবনের পর্যবেক্ষকের তত্ত্বাবধানে কল্যাণীদেবীকে ‘ব্রেন ডেড’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যদিও অঙ্গদান প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভেন্টিলেশন থেকে কল্যাণীদেবীকে বের করা হয়নি। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ আর এন টেগোর হাসপাতালে পৌঁছন অদিতিবাবু। গোটা বিষয়টি তিনি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। যোগাযোগ করা হয় পিজি হাসপাতালের নেফ্রোলজি ও হেপাটোলজি বিভাগের সঙ্গে। দু’টি বিভাগই বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে কল্যাণীদেবীকে পরীক্ষা করে। সমস্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখে। এদিন সকালেও আর এক প্রস্থ কল্যাণীদেবীকে পরীক্ষা করেন পিজির ডাক্তাররা। তারপরই অঙ্গদানের ব্যাপারে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়। সফলভাবে মধুমিতার শরীরে তা প্রতিস্থাপিত করাও হয়। তবুই ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, সময় না গেলে কিছু বলা সম্ভব নয়। যে কোনও সময় পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। তাই হল। শনিবার ভোরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মধুমিতা।

‘ব্রেন ডেথ’ হওয়া রোগীর অঙ্গদানের বিষয়টি শুরু হয় পঞ্চসায়রের বাসিন্দা শোভনা সরকারকে দিয়ে। ২০১৬ সালের ২৭ জুন। সেই শুরু। এরপর ২৬ জুলাই সমর চক্রবর্তী। ৪ নভেম্বর স্বর্ণেন্দু রায়। স্বর্ণেন্দু রায়ের ক্ষেত্রে প্রথম গ্রিন করিডর গড়া হয়। অ্যাপোলো থেকে লিভার, কিডনি পিজিতে আসে। তবে চলতি বছরে কুড়িবার ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষণা করে অঙ্গদানের চেষ্টা হয়। কিন্তু একবারও তা সফল হয়নি।

[ডেঙ্গু নিয়ে অযথা আতঙ্ক নয়, নজর দিন এই বিষয়গুলিতেই]

The post অঙ্গ প্রতিস্থাপনেও শেষরক্ষা হল না, মৃত্যু হল মধুমিতা বিশ্বাসের appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার