সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন বছরের প্রথম সকাল। তার উপর আবার কল্পতরু উৎসব। পুজোপাঠ, প্রার্থনায় নতুনকে বরণ করে নেওয়ার পালা। তাই বেশিরভাগ মানুষই বৃহস্পতিবার কাকভোর থেকেই দক্ষিণেশ্বরমুখী। ভোররাত থেকেই ক্রমশ মন্দির চত্বরে বাড়ছে ভিড়। কাশীপুর উদ্যানবাটি, কামারপুকুরেও ভক্তদের লম্বা লাইন। ভিড় সামাল দিতে বিশেষ নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
প্রতিবারই বছরের প্রথমদিন তুলনামূলক বেশি ভক্ত সমাগম হয় উত্তর কলকাতার কাশীপুর উদ্যানবাটি ও দক্ষিণেশ্বরে। কল্পতরু উৎসবে যোগ দেন বহু মানুষ। দিনভর চলে হোম-যজ্ঞ ও পুজোপাঠ। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই মন্দিরের বাইরে ফুলের ডালা হাতে ভক্তদের লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। একই সঙ্গে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে বেলুড়, কালীঘাট, তারাপীঠেও। কল্পতরু উৎসবের দিন পরমহংসদেবের কাছে মন থেকে চাইলে সে ইচ্ছা পূরণ হয়, সেই বিশ্বাস থেকেই সাতসকালে মন্দিরের বাইরে ভক্তের ঢল। দিনভর চলবে পুজোপাঠ। আলোচনা করা হবে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবন ও বাণী নিয়ে।
প্রসঙ্গত, ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি। ক্যানসারে আক্রান্ত রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তখন গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য তাঁকে আনা হয় উত্তর কলকাতার কাশীপুর উদ্যানবাটিতে। ওই দিন সকালে একটু সুস্থ বোধ করায় বাগানে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভক্ত তথা বিখ্যাত নাট্যকার গিরীশচন্দ্র ঘোষ। রামকৃষ্ণদেব আচমকাই গিরীশচন্দ্রকে জিজ্ঞেসা করলেন, ‘তোমার কী মনে হয়, আমি কে?’ উত্তরে তাঁর ভক্ত বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ‘মানবকল্যাণের জন্য মর্ত্যে অবর্তীণ ঈশ্বরের অবতার।’ এরপর কাশীপুর উদ্যানবাটিতে ভক্তদের স্বরূপে দর্শন দেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। আর্শীবাদ করেন, ‘তোদের চৈতন্য হোক।’ ভক্তরা বলেন, সেদিন কল্পতরু হয়েছিলেন ঠাকুর। রামকৃষ্ণের সেই রূপের সাক্ষী ছিলেন তাঁর গৃহী ভক্তেরা। সেই থেকে প্রতি বছর ১ জানুয়ারি কল্পতরু উৎসব হয় কাশীপুর উদ্যানবাটি ও দক্ষিণেশ্বরে।
