শনিবার ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করা হয় বিধানসভায়। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এদিন ২৮টি রিপোর্ট পেশ করেন। ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করে মন্ত্রী বলেন, "এর জন্য স্পেশাল সেশন হবে। সরকারের যা ত্রুটি, তা সর্বজনীনভাবে পেশ করা গুরুত্বপূর্ণ। এই রিপোর্ট দেখে বুঝতে পারবেন, বাংলা কেন আর্থিকভাবে পিছিয়ে।"
ক্যাগের ২৮ রিপোর্ট দেখেই শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় কার্যত টিপ্পনি ছুড়ে দেন ফিরহাদ হাকিমের উদ্দেশে। ফিরহাদকে লক্ষ্য করে তাপস বলেন, "কী করেছিস ববি!" এই প্রসঙ্গে নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, "ধীর গতিতে তৃণমূলের সর্বোচ্চ স্তরে দুর্নীতি হয়েছে। ক্যাগ আরও বড় দুর্নীতি। সেবাশ্রয় নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। খালি হাউজে বলে লাভ হবে না। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। সই জাল কাণ্ডের মতো থেমে থাকলে চলবে না।"
প্রসঙ্গত, আমফান দুর্নীতি-সহ নানা অভিযোগের তদন্তে সিএজি যে রিপোর্ট দিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে সেই ক্যাগ-এর রিপোর্ট শনিবার বিধানসভায় পেশ করা হয়। সিএজির রিপোর্টগুলি (মোট ২৮টি) পেশ হবে পরবর্তী অধিবেশনে আলোচনা ও সুপারিশগুলি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী গত বুধবারই জানিয়েছিলেন, যেখানে দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে, সে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী বা যত বড় নেতাই তিনি হোন, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের জন্য রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করা হবে।
সিএজি-র রিপোর্ট ও সেবাশ্রয় বিতর্ক, এই দুই ইস্যুতেই শনিবারের বিধানসভা অধিবেশনে সরব হয় শাসকশিবির। এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলে শাসক-বিরোধী তরজা যে চরমে পৌঁছবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে এই আবহে রসিকতার ছলে তাপসের খোঁচা অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল বিধানসভায়।
