রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: শাহী বৈঠকের পরই বঙ্গ বিজেপির দাবাং নেতা দিলীপ ঘোষ সক্রিয় হতে চলেছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। অনুমান যে ভুল নয়, তা স্পষ্ট করে দিলেন খোদ দিলীপই। জানালেন, আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই সল্টলেকে বিজেপির কার্যালয়ে যাচ্ছেন তিনি। বৈঠক করবেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে। সেখানেই দিলীপকে তাঁর দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
দিলীপ ঘোষ যে বঙ্গ বিজেপির সফলতম রাজ্য সভাপতি তা বলাই বাহুল্য। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীনই বাংলায় বিজেপির শিকড় মজবুত হয়েছে। তবে পরবর্তীতে দলে নতুন মুখ এসেছে। একদিকে নতুনদের দায়িত্ব বেড়েছে, অন্যদিকে পুরনোদের একাংশের সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সেই তালিকায় ছিলেন দাবাং নেতা দিলীপ ঘোষও। দীর্ঘদিন দলের কোনও কর্মসূচিতেও ডাক পাননি তিনি। তবে ছাব্বিশে হারানো জমি ফিরে পেতে দিলীপকে প্রয়োজন, তা অনুভব করেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই কারণেই বুধবার তাঁর মান ভাঙাতে আসরে নেমেছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দীর্ঘ বৈঠকের পরই এবার সক্রিয় হতে চলেছেন দিলীপ।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টা নাগাদ সল্টলেকের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করবেন। শাহী বৈঠক ও সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ বলেন, "আমি দলেই ছিলাম। হ্যাঁ, কোনও পদে ছিলাম না। পার্টি যেভাবে চাইবে আমি সেভাবেই কাজ করব।" কিন্তু কেন মেদিনীপুর থেকে সরিয়ে পূর্ব বর্ধামান আসনে দাঁড় করানো হল? এবিষয়ে দিলীপের মন্তব্য, "দল হয়তো ভেবেছিল মেদিনীপুর তো জেতা আসন, বর্ধমানও জিততে পারবে আমাকে দিলে। হয়তো লাভ হবে ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।" এদিনের দিলীপের বক্তব্যেই মনে করা হচ্ছে, যে মান-অভিমানের পালা মিটেছে। শোনা যাচ্ছে, রাজ্যে বিজেপির যে পাঁচটি জোন রয়েছে তাঁর একটি দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে তাঁকে। যদিও এবিষয়ে বিজেপির তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
