স্টাফ রিপোর্টার: দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা। সঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়ায় বাড়ছে ধোঁয়া ও ধুলোর দাপট। জ্বর, কাশি থেকে শ্বাসকষ্ট। এছাড়া তো রয়েছে চিকেন পক্স, হামের দাপট। যার জেরে কাহিল কলকাতা।
মাঘ শেষের আগেই হাজির ফাগুন হওয়া। ঝড়া পাতার সঙ্গেই ঘরে ঘরে হানা দিতে শুরু করেছে মরশুমি রোগ। সবচেয়ে বেশি কাহিল অবস্থা শিশু ও বয়স্কদের। দিনের গরম সহনশীল হলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কমছে তাপমাত্রা। ভোরের দিকে হালকা কম্বলও চড়াতে হচ্ছে শহরবাসীকে। শহরজুড়ে এই খামখেয়ালি আবহাওয়ার জন্যই বাড়ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার দাপট, মত শহরের চিকিৎসকদের। অন্যদিকে শহরজুড়ে এই সময় প্রতিবছরই বাড়তে থাকে ধূলিকণার দাপট। ধোঁয়া, ধুলোর দাপটে দিনের ব্যস্ত সময়ে শরীরে যে বিষ ঢুকছে তাতেই বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, সিওপিডি, ব্রঙ্কিওনিউমোনিয়ার মতো রোগ।
[ভারতী ঘোষের স্বামীকে তলব সিআইডি-র, এড়ালে গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা]
এই বিষয়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস জানিয়েছেন, “এই সময় অসুখ বাড়ে। এই রোগ প্রতিরোধ করতে গেলে মরশুমি শাক-সবজি, ফল খেতে হবে বেশি করে। একই সঙ্গে দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে। এই সময় খাবারে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয় খুব বেশি। তাই খাবার খাওয়ার আগে তা ভাল গরম করে খাওয়াই ভাল। রোটা ভাইরাস, অ্যাডেনো ভাইরাসের মতো জীবাণুর প্রকোপ থেকে পেট খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই হাত ধুয়ে খাওয়া প্রয়োজন। এছাড়া এই সময়ে কনজাংটিভাইটিস ও চর্ম রোগের প্রকোপও বাড়ছে শহরে।”
চিকিৎসকদের আরও দাবি, রাতে বেশিরভাগ মানুষই এখনও ঘরের দরজা, জানলা বন্ধ করে ঘুমোন। আর এতেই ঘরের ভিতর বাসা বাঁধছে রোগ। ঘরের মধ্যেই ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আদর্শ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। যার ফল ভুগতে হচ্ছে হাতেনাতে। পরিবেশবিদরাও মানছেন শীত বিদায়ের সময়টা কলকাতার জন্য খুবই সতর্ক থাকার সময়। এই সময়ে শহরে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ যেমন বাড়ে তেমনই অন্যান্য দূষিত গ্যাসের তারতম্য নষ্ট হয় বাতাসে। ফলে এই সময়ে সচেতনতা অবলম্বন করে চলা প্রয়োজন। জ্বর ও সর্দি-কাশির সঙ্গে বাড়ছে শরীরজুড়ে ব্যথা। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বরং হঠাৎ করে ঠান্ডা যাতে না লাগে তার জন্য বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
[নয়া নিয়ম স্থগিত, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরনো বিধিতেই ফের ফলপ্রকাশ]
ধুলোবালি কিংবা ঠান্ডা জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে বা পরে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ার কথাও বলছেন চিকিৎসকরা। ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার কথাও বলছেন নিউট্রিশিয়ানিস্ট। এই আবহাওয়া নিয়ে অবশ্য নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানিয়েছেন, পারদের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকবে। কারণ বঙ্গোপসাগরের উপর একটি বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। যা সাগরের জলীয় বাষ্পকে দক্ষিণবঙ্গের পরিমণ্ডলে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের জেরে তাপ বিকিরণ হতে পারছে না। ফলে বাড়ছে তাপমাত্রা। বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত দুর্বল হলেও তাপমাত্রা নামার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। তার আঁচ অবশ্য এদিন বেলা গড়াতেই অনুভূত হয়েছে।
The post শীত সরতেই নতুন বিপদ, ধোঁয়া-ধুলোয় শ্বাসকষ্টে অতিষ্ঠ শহর appeared first on Sangbad Pratidin.
