বাংলায় বসে আমেরিকার নাগরিকদের সঙ্গে বড়সড় সাইবার প্রতারণা! অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা থেকে একে একে আটজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৫টি ল্যাপটপ, ১২টি মোবাইল ও দুটি রাউটার। ধৃতদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, মাইক্রোসফটের নামে ভুয়ো কল সেন্টার খুলে তারা মার্কিন নাগরিকদের সাইবার প্রতারণার জালে ফেলত। তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে।
বেশ আঁটঘাট বেঁধেই সাইবার প্রতারণার জাল বিছিয়েছিল প্রতারকরা। মহেশতলার জোত শিবরামপুরের এক আবাসনে ঘর ভাড়া নিয়ে ভুয়ো কলসেন্টার খুলেছিল। বলা হচ্ছিল, মাইক্রোসফটের হয়ে কাজ করছে তারা। শুধু মাইক্রোসফট নয়, প্রতারকরা দাবি করত, আমেরিকার একাধিক নামীদামি ব্যাঙ্কের প্রযুক্তির কাজ করে তারা। নিজেদের পরিচয় দিত টেকনিক্যাল সাপোর্ট এক্সিকিউটিভ হিসেবে। এভাবেই মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি চলছিল। সোশাল মিডিয়াতেও ছড়াচ্ছিল এই জাল। প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা পরে মাইক্রোসফটে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, গোটা ব্যাপারটাই ভুয়ো। এনিয়ে গত নভেম্বর মাসে কলকাতার সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি টিম তৈরি করে তদন্তে নামে সাইবার ক্রাইম শাখা। বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টে ৪০ থেকে মিনিট কুড়ির অপারেশন চালানো হয় মহেশতলার নামী আবাসন গ্রিন ফিল্ড সিটিতে। সেখানকার ব্লক-৪৬এর সেভেন বি-তে প্রতারকদের ডেরার হদিশ মেলে। সেখান থেকেই একে একে আটজনকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের নাম জুনেদ আলি, মহম্মদ সাকির, মহম্মদ খুরশিদ আখতার, শাদাব খান, জাকির খান, হুসেন আহমেদ খান, শেখ আমিরুল্লা, কুন্দন রায়। এরা কলকাতা ছাড়াও বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। বেশিরভাগের বয়স ২৪ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। একমাত্র হুগলির বাসিন্দা জাকির খানের বয়স ৪৫।
