এলাকার পুকুর থেকে খেলার মাঠ। কিছুই বাদ যায়নি তাঁর নজর থেকে! এবার মারধর-শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার বেহালার ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর অঞ্জন দাস ও তাঁর সঙ্গী প্রোমোটার ভোলা সরকার। অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় রবীন্দ্রনগর এলাকার আস্ত একটি পুকুর দখল করে ফেলেছিলেন এলাকারই এক প্রোমোটার। এর এই দখলদারির নেপথ্যে মদত ছিল ওই ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর অঞ্জন দাসের। তাঁর স্ত্রী সংহিতা দাস ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। স্থানীয় সূত্রে খবর, বকলমে কাউন্সিলরের চেয়ারে তাঁর স্ত্রী থাকলেও, গোটা এলাকায় অঞ্জন দাসের নির্দেশেই চলত যাবতীয় অনৈতিক কার্যকলাপ। অভিযোগ, ওই ওয়ার্ডের প্রোমোটাদের সিন্ডিকেটের মাথা হয়ে কলকাঠি নাড়তেন তিনিই। এবার প্রাক্তন কাউন্সিলর অঞ্জন দাস সহ বিপ্লব ঘটক, ভোলা সরকার, সন্তু দাস, উৎপল দে, চিত্তরঞ্জন দাস এবং মৃত্যুঞ্জয় দাস নামে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় পর্ণশ্রী থানায়।
অভিযোগ, রবীন্দ্রনগর এলাকায় আস্ত পুকুর দখলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা সুশান্ত ঘোষ সে সময় অঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ, এরপরই প্রাক্তন কাউন্সিলরের কোপের মুখে পড়েন তাঁরা। সুশান্ত ঘোষকে মারধর ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। পালাবদলের পর এবার ফের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সরব অভিযোগকারী।
শ্লীলতাহানি ও খুনের চেষ্টার ধারা যুক্ত করে ফের অঞ্জনের দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলাটি পুনরায় তদন্তের আবেদন জানিয়ে আদালতেও যান ওই ব্যক্তি। এরপরই আদালতের নির্দেশে পার্নশ্রী থানার এসআই কুণাল বারাইককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আদালতের অনুমতি পেতেই তৎপর হয় পর্ণশ্রী থানা। গত ৮ জুলাই অভিযোগকারী সুশান্ত ঘোষ ও তাঁর স্ত্রীর বিজয়া ঘোষের বয়ান রেকর্ড করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুক্রবার রাতে অভিযানে নামে পুলিশ। মাঝরাতেই বাড়ি থেকে তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর অঞ্জন দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
