মাসপয়লা থেকে কলকাতার সরকারি স্কুলের মিড ডে মিলের দায়িত্বে ইসকন। তার ফলে কী চাকরি হারাবেন রাঁধুনিরা, তা নিয়ে নানা মহলে চলছে জোর চর্চা। তবে সেই জল্পনায় জল ঢাললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একজন রাঁধুনিও চাকরি হারাবেন না বলে আশ্বস্ত করলেন তিনি।
সমালোচকদের যোগ্য জবাব দিয়ে শুভেন্দু বলেন, "অপুষ্টির মোকাবিলায় এই প্রকল্প জরুরি ছিল। বিত্তশালীরা সরকারি স্কুলে সন্তানকে পাঠান। ইসকন সনাতন সংস্কৃতি মেনে খাবার দেবেন। এটা সামনে আসার পর থেকেই সমালোচনা চলছে। গণতন্ত্রে বিরোধী থাকা ভালো। প্রথম থেকে আন্ডা আন্ডা করে মিছিল বের করে ফেললেন। ইসকন সমঝোতা করেন না। আমরা ওড়িশাতে টিম পাঠাই। ওখানে এসএইচজি গ্রুপ মারফত একদিনে ডিম দেন। আমরা সপ্তাহে দু'দিন করে ডিম দেব।"
তিনি আরও বলেন, "আশা করি সমালোচকরা হিংসা রিপু নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। আর একটা মিছিল চোখে পড়েছে। মিড ডে মিলের রাঁধুনির কাজ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। একজন রাঁধুনিও কর্মচ্যুত হবেন না। আগের সরকার ২ হাজার টাকা করে বেতন দিত। আগস্ট থেকে আমরা ৩ হাজার টাকা দিচ্ছি।" তিন হাজার টাকা খুব বেশি নয়। তবে আমাদের টাকা নেই। ৮ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া। মোটে ১১ সপ্তাহের সরকার। একটা বছর সময় দিন। এই রাজ্য অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে। উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার মিড ডে মিলে এক গ্লাস দুধ, ফলের রস, কখনও আপেল, পনির, ডাল যুক্ত করেছেন। গত ৪৯ বছর ধরে যারা রাজনীতি ছাড়া আর কিছু করেন না। তাঁরা সোমবার স্কুলে যান। মিড ডে মিলের স্বাদ নিয়ে আসুন। খাবার কেমন হল বুঝতে পারবেন।"
বলে রাখা ভালো, বাংলায় ইসকনের ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’ মাধ্যমে শনিবার থেকে স্কুলে স্কুলে পৌঁছে যাবে মিড ডে মিল। তার জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ইসকনের মেগা কিচেন থেকে ইলেকট্রিক গাড়িতে রান্না করা খাবার স্কুলে পৌঁছে যাবে। মিড ডে মিলের গুণমান ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে খাবার ভরা প্রতিটি কনটেনার সিলড থাকবে। ইসকন থেকে গাড়ি স্কুলে পৌঁছনোর পর স্কুল কর্তৃপক্ষের সাক্ষর নেওয়া হবে ইসকনের তরফে। তারপরেই কনটেনারের সিল খোলা যাবে।
