জঙ্গি হামিম মণ্ডল ও তার শাগরেদদের জেরা করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছে পুলিশ। শুধু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) অনুষ্ঠান বা যাত্রাপথই নয়, তাঁর চিনার পার্কের বাড়িতেও রেইকি করেছিল হামিম (Hamim Mondal)। সম্ভবত নবান্ন চত্বরেও নজরদারি চালিয়েছে তারা। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে নবান্ন চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ধৃত জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডল।
গত বৃহস্পতিবার বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জইশ ই মহম্মদের সদস্য হামিম মণ্ডলকে। এরপরই জানা যায়, তাদের টার্গেট ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিনভর তাঁর গতিবিধির উপর নজরদারি রাখা ছিল হামিমের ‘টাস্ক’। তাকে এই কাজের দায়িত্ব দিয়েছিল পাক হ্যান্ডলাররা! এসটিএফের কথায়, ‘আনগার্ডেড লোকেশন’ চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। যাতে ষড়যন্ত্রের ব্লু প্রিন্ট ছকতে সুবিধা হয়। সেই মতোই মুখ্যমন্ত্রীর উপর নজর রাখত হামিম। শুভেন্দুর একাধিক অনুষ্ঠানেও গিয়েছে হামিম। এবার প্রকাশ্যে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুধু অনুষ্ঠান বা যাত্রাপথ নয়, তাঁর চিনার পার্কের বাড়িও রেইকি করেছিল হামিম। আশপাশে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকার পরিকল্পনাও ছিল। তবে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল কি না এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্তকারীদের অনুমান, হামিম ও তার সহযোগীরা নবান্ন চত্বরেও ঘোরাফেরা করেছে। উদ্দেশ্য সেই একটাই, শুভেন্দুর নিরাপত্তার ফাঁকফোকর খুঁজে বের করা।
এসটিএফের আরও তথ্য, শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, হামিমের টার্গেটে ছিলেন হাওড়ার উত্তরের বিধায়ক তথা পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। তাঁর ছেলেকে ‘হানিট্র্যাপে’র মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে, অপহরণ করে বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা। এই সমস্ত তথ্যই হামিমকে জেরা করে পেয়েছেন বলে দাবি এসটিএফ আইজি গৌরব শর্মার। তবে এখনও আরও বহু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বাকি। হামিমের বান্ধবী ঝাড়খণ্ডের অর্পিতা সরকার ও আরেক শাগরেদ আদিত্য সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অর্পিতার সঙ্গে সরাসরি পাক হ্যান্ডলারদের যোগ ছিল। কিন্তু বাংলাজুড়ে জঙ্গি নেটওয়ার্ক বিস্তারে হামিম-অর্পিতা-আদিত্যর সঙ্গে আরও কারা যুক্ত ছিল? ঠিক কোন কোন নাশকতার ছক ছিল? এদের আর্থিক উৎস কী? এসব তথ্যের খোঁজে ম্যারাথন জেরা চলছে ধৃত।
