রাজ্যে বিএড কোর্স করানোর নামে রমরমিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে বেসরকারি কলেজগুলি। এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ কলকাতা হাই কোর্ট। কলেজগুলি ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার মান নিয়ে আদৌ কতটা চিন্তিত, এই সংক্রান্ত এক মামলায় তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি অনিন্দিতা সিনহা। গোটা ঘটনায় রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি সিনহা জানিয়েছেন, উপযুক্ত আধিকারিকদের নিয়ে তদন্তকারী দল গঠন করবে উচ্চশিক্ষা দফতর। সেই দল বেসরকারি বিএড কলেজগুলির কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি 'ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন' (এনসিটিই) কর্তৃপক্ষকেও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। আগামী ১ অক্টোবর আদালতে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ইতিমধ্যে যে ছাত্রছাত্রীরা প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষায় বসতে পারছেন না, তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে, যেন তাঁদের ভবিষ্যত নষ্ট না-হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত করতে হবে জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
বিচারপতি সিনহা জানিয়েছেন, উপযুক্ত আধিকারিকদের নিয়ে তদন্তকারী দল গঠন করবে উচ্চশিক্ষা দফতর। সেই দল বেসরকারি বিএড কলেজগুলির কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখবে।
অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন জেলায় বেসরকারি কলেজগুলিতে শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে যাওয়ার প্রায় বছরখানেক পরও ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। এদিকে প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ন্যূনতম একশো দিনের ক্লাস না-হওয়ার কারণে সেইসব নতুন পড়ুয়াদের পরীক্ষায় বসতে দিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়। এনিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি সিনহা বলেন, "কীসের জন্য টাকা দিচ্ছেন ছাত্রছাত্রীরা? টাকা দিয়ে কোর্স করবে, তারপর চাকরি পাবে না, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবে। এই তো অবস্থা? সেমেস্টার শুরু হয়েছে গত বছর জুলাই মাসে। আর ছাত্রছাত্রী ভর্তি চলছে এবছরের মে মাসেও! শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। তারপর অগস্ট মাসের প্রথম সেমেস্টারে পরীক্ষায় বসার অনুমতি চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন! বিশ্ববিদ্যালয়ের, এনসিটিই-র কোনও রকম নজরদারির ব্যবস্থা নেই !"
