চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছে জলহস্তী। ফিজিওথেরাপিতে ধীরে ধীরে তার পায়ের বলও ফিরছে। জলে হাঁটাচলা ফের শুরু করেছে সে। ২০ দিন পর সে জল থেকে উঠল। খুব শীঘ্রই সে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে বলে আশাবাদী আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। জলহস্তীর পায়ের বল ফেরাতে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। সেই মেডিক্যাল বোর্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে জলহস্তীর ফিজিওথেরাপি শুরু হয়েছে। ইনফ্রারেড রে দিয়ে তার স্নায়ুকে সজীব করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ইনফ্রারেড রে থেরাপিতে সুফল মিলছে। রবিবার জলহস্তীটি নিজে থেকে জলের মধ্যে হাঁটাচলা করে। স্বেচ্ছায় জলাশয়ের পাড়ে একবার উঠেছিল। তবে বেশিক্ষণ সে পাড়ে থাকতে পারেনি। জলে আবার নেমে যায়। চিকিৎসকরা মনে করছেন আরও কিছুদিন তার এই থেরাপি চললে সে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারবে।
স্নায়ুর সমস্যায় পায়ে বল হারিয়ে যায় আলিপুর চিড়িয়াখানার ৪ বছরের পুরুষ জলহস্তীর। যে কারণে হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায়। ২০ দিন ধরে সে একটানা জলবন্দি হয়ে রয়েছে। জলহস্তী জলে বাস করে ঠিকই। তবে খাওয়াদাওয়ার জন্য ডাঙায় ওঠে মাঝে মাঝে। রাতে নাইট শেল্টারে ফিরে যেত। কিন্তু স্নায়ুজনিত সমস্যায় পায়ের বল হারিয়ে ফেলায় সে নড়চড়া করতে পারছিল না। জলেই দাঁড়িয়ে থাকে। চিকিৎসার জন্য তাকে জল থেকে তোলার চেষ্টা করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। যদিও তাকে জল থেকে ঠেলে তোলা যায়নি। তাই জলাশয়ের পাড়ে খাবারের সঙ্গে ওষুধ দিয়ে তার চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু তাতে খুব একটা উপকার হচ্ছিল না। পায়ে বল না থাকায় পাড়ে গিয়ে খাবারও ঠিকমতো খেতে পারছিল না।
এদিকে দিনের পর দিন এভাবে জলে ডুবে থাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এরপরই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে মেডিক্যাল টিম গঠন করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। নন্দনকানন থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল এই জলহস্তীটিকে। মেডিক্যাল টিমে নন্দনকাননের চিকিৎসকও রয়েছেন। এছাড়া দেশের যেসব চিড়িয়াখানায় জলহস্তী রয়েছে, সেখানকার চিকিৎসকদেরও টিমে রাখা হয়েছে। তাঁদেরই পরামর্শ নিয়ে জলহস্তীর ফিজিওথেরাপি শুরু হয়। ইনফ্রারেড রে হল ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন যা নার্ভকে সক্রিয় করে তোলে। এই রে দিয়ে তার ফিজিওথেরাপি চলছে। আরও এক সপ্তাহ তার এই থেরাপি চলবে বলে মেডিক্যাল বোর্ডের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন।
