মোদির বঙ্গ সফরের দিনই রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি প্রাণনাশের চেষ্টা করে বলেই অভিযোগ রাজ্যের মন্ত্রী। ঠিক ওইদিনই ব্রিগেডের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইসিইউতে ঢোকানোর হুমকি দিয়েছিলেন বিজেপির তারকা প্রচারক মিঠুন চক্রবর্তী। দিলীপ ঘোষের মুখেও শোনা গেল একই হুমকির সুর। তবে কি শশী পাঁজার পর টার্গেট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বাভাবিকভাবেই উঠছে সে প্রশ্ন। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কীভাবে এমন হুমকি দিতে পারেন, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে উঠছে সে প্রশ্ন।
রবিবার প্রাতঃভ্রমণের পর নিউটাউনের ইকো পার্কের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "বাইরের লোক লাগে না আমরাই তৃণমূলকে মারতে পারি। সারা বাংলায় মারব। আমার কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে আহ্বান করছি আমরা সামনে আছি। শুরু করেছি। আপনারা হাত লাগান। এবার আপনারাও হাত লাগান। কলকাতায় ঠুকতে পারলে, সারা বাংলায় ঢুকতে পারি। শশী পাঁজা নাটক করছেন। গুরু যেমন চ্যালাও তেমন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিবিআই গ্রেপ্তারির সময় মব নিয়ে এসে পার্টি অফিস ভাঙচুর করেছিলেন। কালও তাই করেছেন। মব নিয়ে বাসে ইট, পাটকেল ছুঁড়ছিলেন। বুঝতে পারেননি সব সময় একরকম হবে না। আমাদের কর্মীরা তৈরি হয়ে আছেন। এবার সাবধান না হলে শুধু মাথায় নয়, আরও অনেক জায়গায় ব্যান্ডেজ বাঁধতে হবে। বোম, বন্দুক সব আনব। "
এরপর রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে দিলীপ ঘোষ বলেন, "মনে রাখবেন, কাল প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা হিসাব। হিসাব মানে শুধু টাকার হিসাব নয়। এতদিন যা গুন্ডামি করেছেন, তার সব হিসাব চোকাতে হবে। যদি শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা হতে পারে। কালীঘাটেও হামলা হতে পারে। মদন মিত্র বা চেতলার বাড়িতেও হামলা হতে পারে। এবং হবেও এটা জেনে রাখুন। নাড্ডাজির উপর এখানে হামলা হয়েছিল। আমি নিজে গাড়িতে ছিলাম। মোদিতে গো ব্যাক হোর্ডিং দেয়। একদিন পেটাতেই হোর্ডিং নামিয়ে নিয়েছেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমি তৃণমূলকেই নামিয়ে দেব।" বলে রাখা ভালো, গত কয়েকটি নির্বাচনে বাংলায় মোটেও আশানুরূপ ফল করতে পারেন বিজেপি। ছাব্বিশের লড়াই বিজেপির কাছে 'ডু অর ডাই' ম্যাচের মতো। তবে তা সত্ত্বেও বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতাই বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। তার উপর আবার তাদের গোষ্ঠীকোন্দল। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভোটের লড়াইতে তেমন ভালো ফল না-ও হতে পারে সেই আশঙ্কায় হুমকির রাজনীতি করছে গেরুয়া শিবির। যদিও 'আত্মবিশ্বাসী' তৃণমূলের দাবি, বঙ্গবাসী হিংসার জবাব দেবে।
