দোল ও হোলিতে যাতে মদ্যপান করার পর কেউ স্নান করতে না নামেন, সেই ব্যাপারে সতর্ক হল পুলিশ। তার জন্য শহরের ঘাটগুলিতে নজরদারি পুলিশের। চলন্ত গাড়িতে করে যাতে অনিচ্ছুক ব্যক্তিদের গায়ে রং না ছোড়া হয়, সেদিকেও সতর্ক হচ্ছে পুলিশ। রাস্তায় কেউ বেলল্লাপনা করলে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করবে। রাস্তার কুকুর বা অন্য কোনও পশুর শরীরে যাতে রং না লাগানো হয়, তার জন্যও প্রচার চালাতে শুরু করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ও বুধবার যাতে সারা শহরজুড়ে সম্প্রীতি বজায় থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর থাকছে পুলিশের।
লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, দোল ও হোলির দিন যাতে কোনও গোলমাল না হয়, তার জন্য সারা শহরজুড়ে মোতয়েন করা হচ্ছে প্রায় চার হাজার পুলিশ। রাস্তায় থাকছেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ও ডিসি পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিকরাও। দোলে রাস্তায় থাকছে প্রায় ৪০০ পুলিশ পিকেট। এর মধ্যে ৮৬টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকছে বিশেষ পুলিশ পিকেট, যেখানে মোতায়েন থাকছেন ৬জন পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশকর্মী। এ ছাড়াও আরও ৩১২টি জায়গায় পিকেটে থাকছেন তিনজন করে পুলিশকর্মী। দোলের দিন রাস্তায় হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড রাস্তায় থাকছে। ৬২টি পিসিআর ভ্যান ও সঙ্গে কুইক রেসপন্স টিম শহরজুড়ে টহল দেবে। প্রত্যেকটি থানা এলাকার অপরিসর রাস্তাগুলিতে টহল দেবে পুলিশের বাইক। দোল বা হোলিতে রং মেখে যাতে মদ্যপ অবস্থায় কেউ গঙ্গা বা জলাশয়ে স্নান করতে না নামেন, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। কলকাতার ৬৬টি গঙ্গা ও বিভিন্ন জলাশয়ের ঘাটে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা থাকছে। তার মধ্যে অন্তত ২৪টি ঘাটে মোতায়েন থাকছে কলকাতা পুলিশের ডিএমজি।
এ ছাড়াও দশটি ডিভিশনে একেকটি করে ডিএমজি টিম তৈরি থাকছে। যাতে বহুতলের ছাদ বা বারান্দা থেকে পথচারীদের দিকে রং বা জলভর্তি বেলুন না ছোড়া হয়, সেদিকে পুলিশের নজর থাকবে। রাস্তার কুকুর বা অন্য কোনও পশুর শরীরে যাতে রং না লাগানো হয়, সেদিকেও টহলরত পুলিশকে নজরদারি করতে বলা হয়েছে। কোনও গোলমালের খবর পেলেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাহিনী ঘটনাস্থলে যাতে পৌঁছয়, তার জন্য প্রত্যেকটি থানাকে সতর্ক করছে লালবাজার। জোর করে রং দেওয়া বা রং খেলার নামে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এলেই সঙ্গে সঙ্গে থানাকে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বেআইনি মদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
