রূপটানের জন্য বাইপাসের ধারে নামী এক স্যাঁলোয় গিয়েছিলেন সোনারপুরের মহিলা। এখানেই তিনি নিয়মিত যান রূপচর্চা করতে। মোটের উপর ভরসার জায়গা। কিন্তু সেখানেই যে এমন এক কাণ্ড ঘটবে, দুঃস্বপ্নে কেউ ভাবতেই পারেননি! ফেসিয়ালের সময় পার্লার কর্মী নাকি তাঁর মুখে গরমজল ছুড়ে মারেন! সঙ্গে সঙ্গে মুখ জ্বলে যাওয়ার অনুভূতি নিয়ে রীতিমতো অস্থির হয়ে উঠলেন মহিলা। সঙ্গে সঙ্গে ছুটলেন হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কিছুটা ধাতস্থ হয়ে তিনি সার্ভে পার্ক থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই পার্লার কর্মীর বিরুদ্ধে। তাতে স্পষ্ট উল্লেখ, বড় অবহেলা, অযত্ন আর অপেশাদার আচরণ করা হয়েছে তাঁর সঙ্গে। যার জেরে মুখে এখনও জ্বালাপোড়ার দাগ। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে।
ঘটনা ঠিক কী? জানা যাচ্ছে, সোনারপুরের বাসিন্দা ঐশ্বর্য নাথ। তিনি বাইপাসের এক নামী শপিং মলের অভিজাত স্যাঁলো বা পার্লারে নিয়মিত যান রূপচর্চার জন্য। কয়েকদিন আগেও গিয়েছিলেন ফেসিয়াল করাতে। প্রিয়া তাঁতি নামে পার্লারের এক কর্মী তাঁর রূপচর্চা করছিলেন। আর সেখানে ঘটে গেল বিষম বিপদ! ঐশ্বর্যর অভিযোগ, ফেসিয়াল করানোর সময়ে আচমকাই গরমজল তাঁর মুখে ঢেলে দেওয়া হয়। তীব্র জ্বালা অনুভব করেন ঐশ্বর্য। সঙ্গে সঙ্গে তিনি পার্লার কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানান। কিন্তু অভিযোগ, তাঁর শুশ্রূষায় কেউ এগিয়ে আসেনি। তখন তিনি পার্লার থেকে বেরিয়ে স্থানীয় এক বেসরকারি হাসপাতালে যান চিকিৎসার জন্য। তখনও মুখ জ্বলছিল ঐশ্বর্যর। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ বোধ করেন তিনি। এরপরই সার্ভে পার্ক থানায় দায়ের করেন অভিযোগ।
এফআইআরে ঐশ্বর্য উল্লেখ করেছেন, এই কাজ স্পষ্ট অপেশাদারি মনোভাব, কাজে বড়সড় গাফিলতি এবং অযত্নের ফল। গরমজল সরাসরি মুখে ছিটিয়ে দেওয়ায় তিনি এখনও যন্ত্রণায় ভুগছেন। এমনিতে ফেসিয়ালের সময়ে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে মুখ ধোয়ানো হয়। কিন্তু সেটা অবশ্যই সহনশীল তাপমাত্রার হতে হয় এবং তা কখনও ছিটিয়ে দেওয়া হয় না। নরম কাপড় ওই জলে ভিজিয়ে ধীরে ধীরে মুখ ধোয়ানো হয়। কিন্তু ঐশ্বর্যকে ফেসিয়াল করানো নামী স্যাঁলোর কর্মী কি সেই পদ্ধতি জানতেন না? নাকি ইচ্ছে করেই তিনি ওভাবে গরমজল ছিটিয়ে দিয়েছিলেন? তার প্রকৃত জবাব চেয়ে ওই কর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অন্যের হাতে রূপচর্চা করতে গিয়ে এমন বিপদে পড়তে হল, তা এখনও যেন বিশ্বাস হচ্ছে না ঐশ্বর্যর।
