এলাকায় বরাবর 'তোলাবাজ' বলে দুর্নাম ছিলই। এবার মহিলার শ্লীলতাহানির পর মারধর, ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অভিযোগে পুলিশের জালে বরানগরের আইএনটিটিইউসি নেতা শংকর রাউত। তার সঙ্গে আরও তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে বরানগর থানার পুলিশ। আজ তাদের বারাকপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।
জানা যাচ্ছে, দিন কয়েক আগে বরানগর পৌর এলাকার লেবুবাগান এলাকার এক মহিলাকে মারধর, শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে শংকর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। মহিলার চিৎকার শুনে এলাকার মানুষজন ঘটনাস্থলে গিয়ে অর্পণ দত্ত ও দেবজ্যোতি বণিক ওরফে বনিকে দেখে মারধর করেন। অনুগামীরা আক্রান্ত হয়েছে, এই খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে কুখ্যাত আইএনটিটিএইউসির নেতা শংকর অভিযুক্তদের ছাড়িয়ে নিজের গাড়িতে তুলে নেন। তারপর বরানগর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। শংকর ঘনিষ্ঠ ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন ওই মহিলা।
ঘটনা ঠিক কী? জানা যাচ্ছে, দিন কয়েক আগে বরানগর পৌর এলাকার লেবুবাগান এলাকার এক মহিলাকে মারধর, শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে শংকর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। মহিলার চিৎকার শুনে এলাকার মানুষজন ঘটনাস্থলে গিয়ে অর্পণ দত্ত ও দেবজ্যোতি বণিক ওরফে বনিকে দেখে মারধর করেন। অনুগামীরা আক্রান্ত হয়েছে, এই খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে কুখ্যাত আইএনটিটিএইউসির নেতা শংকর অভিযুক্তদের ছাড়িয়ে নিজের গাড়িতে তুলে নেন। তারপর বরানগর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। শংকর ঘনিষ্ঠ ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন ওই মহিলা। তার ভিত্তিতে তদন্তে নামে বরানগর থানার পুলিশ।
বরানগরের যে হাসপাতালে শংকরের অনুগামীদের চিকিৎসা চলছিল, সেখানেই পুলিশ অভিযান চালায়। হাসপাতাল থেকে শংকর রাউত ও তাঁর ঘনিষ্ঠ তিন নেতা - অর্পণ দত্ত, দেবজ্যোতি বণিক ওরফে বনি ও দেবাশিস দাস ও সুবল দে-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে অর্পণ দত্ত ও দেবজ্যোতি বণিকের নামেই ওই মহিলা অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, এর আগেও শংকর ঘনিষ্ঠ অর্পণ এক ইন্টিরিয়ার ডিজাইনারকে মারধরের অভিযুক্ত হয়ে জেলবন্দি ছিল। পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় ঢুকে ফের তাণ্ডব শুরু করে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
আইএনটিটিইউসি নেতা হলেও বরানগর এলাকায় শংকরের একচেটিয়া দাপট চলত। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তোলাবাজির অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অটো, টোটো থেকে বাড়ি তৈরির জন্য মোটা অঙ্কের তোলা আদায় করতেন শংকর। এবার এসব দুষ্কর্মের জন্য গ্রেপ্তার হতে হল। রাজ্যে পালাবদলের পরই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারি ছিল, এবার থেকে তোলাবাজ, দুর্নীতি, নারী নিগ্রহের মতো ঘটনা এ রাজ্যে আর ঘটবে না, আইনের শাসনের মাধ্যমে এসব সমাজবিরোধী কার্যকলাপে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করছে নতুন সরকার। সেইমতো একে একে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতারা গ্রেপ্তার হয়েছে। সেই তালিকায় এবার নাম জুড়ল বরানগরের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতা শংকরের নাম।
