ফের জেলের ভিতর থেকে মোবাইল উদ্ধার। অভিযোগ, প্রেসিডেন্সি জেলের (Presidency Jail) বন্দি আফতাব আহমেদ আনসারির সেলে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে তিনটি মোবাইল। এমনকী, তার সেল থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩১ হাজার টাকাও। এই ব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তারই ভিত্তিতে শুরু হয়েছে মামলা।
আফতাব আহমেদ আনসারি আমেরিকান সেন্টারে হামলায় মূলচক্রী। প্রথমে তার মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয় আদালত। পরে অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট তা পুনর্বিবেচনা করে যাবজ্জীবন সাজার নির্দেশ দেয়। প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে রয়েছে আফতাব। পুলিশ জানিয়েছে, ওই আফতাব সেলের ভিতর মোবাইলে কথা বলছে, এমন তথ্য এসেছিল গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। এছাড়াও পুলিশ খবর পায়, সে ইচ্ছামতো ইন্টারনেটও ব্যবহার করছে। জেলের ভিতর থেকে আফতাব আনসারির মতো কুখ্যাত অপরাধী কাদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম কলে যোগাযোগ রাখত, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এমনকী, পাকিস্তানে সে ফোন করত কি না, সেই তথ্যও পুলিশ জানার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি পুলিশের খবরের সূত্রেই জেলের ১৪ নম্বর সেলে তল্লাশি চালান কারা আধিকারিকরা।তার জামাকাপড়, বিছানাপত্র ঘেঁটে উদ্ধার হয় তিনটি মোবাইল ফোন। এছাড়াও দু’টি রাউটার, ওয়াইফাইয়ের যন্ত্র, দু’টি কার্ড রিডার, একটি পেন ড্রাইভ, ইয়ারফোন উদ্ধার হয়। সঙ্গে পাঁচশো টাকার নোটে ৩১ হাজার টাকা আফতাব লুকিয়ে রেখেছিল তার সেলে। কীভাবে সে এই টাকা ও মোবাইল, তথা বিপুল সংখ্যক বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম জোগাড় করেছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এমনকী, এর পিছনে কোন কোন কারাকর্মীর হাত রয়েছে, তা-ও জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বলে রাখা ভালো, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই গত ১৫ মে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙতে তৎপর হন শুভেন্দু অধিকারী। জেলবন্দিদের হাতে মোবাইল থাকার নেপথ্যে পূর্বতন শাসক শিবিরের সহযোগিতা রয়েছে বলেই দাবি করেন তিনি। তদন্তে নেমে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রেসিডেন্সির সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়। সিআইডি তদন্তেরও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর থেকে একাধিকবার জেলবন্দিদের কাছ থেকে স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
