যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আর এন রবির দ্বারস্থ হল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি। পিএইচডি দুর্নীতিতে সিবিআই তদন্ত, দেশবিরোধী গতিবিধির অভিযোগ এবং ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার ঘটনায় অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবিতে এ দিন রাজ্যপালকে একটি স্মারকলিপি দেয় প্রতিনিধিদল।
পাশাপাশি, জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানানো হয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।"
উল্লেখ্য, এ দিন এই ইস্যুতে এবিভিপির পাশে দাঁড়িয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুরে 'বন্দে মাতরম' কর্মসূচি থেকে এবিভিপির সমর্থনে হুঙ্কার দিয়ে তিনি বলেন, "হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়, ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি হোক বা জেএনইউ-সব জায়গায় বামপন্থীদের সোজা করেছে এবিভিপি। এবার যাদবপুর বাকি আছে। ওটাও হয়ে যাবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য এবং এবিভিপির রাজ্যপাল ভবন অভিযানের পর যাদবপুরের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
কারণ, ইতিমধ্যেই যাদবপুর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এসএফআই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব করার অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার ডাক দিয়ে এসএফআই নেতৃত্ব দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি করে। এসএফআইয়ের বক্তব্য, হুমকি দিয়ে, হাওয়া গরম করে লাভ হবে না। আজাদি স্লোগান নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে এসএফআই। দাবি, এই আজাদির লড়াই দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে লেখাপড়া করার আজাদি, মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার আজাদি। এই আজাদি স্লোগান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু তাতে ছাত্রসমাজের কিছু যায়-আসে না। এই স্লোগান আগামীতেও উঠবে বলে জানিয়ে দেয় এসএফআই।
