মধ্যপ্রাচ্যে ধুন্ধুমার যুদ্ধের জেরে জ্বালানির কোপ এবার কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন বিখ্যাত বেকারি নাহুম অ্যান্ড সনসেও। গ্যাস সংকটে আপাতত দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের। এ এক বিরল ব্যাপার। নিউ মার্কেটে নাহুম অ্যান্ড সনস বেকারির সামনে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঝাঁপ বন্ধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে লেখা - এলপিজি সংকটের কারণে আপাতত ১৮ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত, ৫ দিন বন্ধ থাকবে বেকারি। এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই মনখারাপ কেকপ্রেমীদের। আবার কবে নাহুমের বিখ্যাত প্লাম কেক, ফ্রুট কেকের স্বাদ মেলে - সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন তাঁরা।
এই বেকারির যাঁরা দীর্ঘদিনের ক্রেতা, তাঁরা জানেন, এ এক বিরল ঘটনা। কারণ, শত অসুবিধার মধ্যে নাহুম অ্যান্ড সনস প্রায় কখনওই বন্ধ থাকেনি। সাম্প্রতিককালে মাত্র দু'বার এমনটা হয়েছে। ২০১৩ সালে বেকারির কর্ণধার ডেভিড নাহুমের মৃত্যুতে ঝাঁপ বন্ধ ছিল কয়েকদিন। এরপর ২০২০ সালে কোভিডের কারণে লকডাউন এবং বেকারি বন্ধ।
গত মাসখানেক ধরে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে অগ্নিগর্ভ গোটা মধ্যপ্রাচ্য। বন্ধ বিশ্বের 'তৈল ধমনী' পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী। এই পথেই বিশ্বের এক চতুর্থাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ হয় গোটা বিশ্বে। এত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বভাবতই জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ভারতেও তার কোপ পড়েছে। যুদ্ধ আবহে এলপিজি-র মূল্যবৃদ্ধি করেছে কেন্দ্র। ২৫ দিনের আগে সিলিন্ডার বুকিংয়ে নিষেধাজ্ঞা-সহ একগুচ্ছ নয়া নিয়ম জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গৃহস্থ থেকে হোটেল, রেস্তরাঁ সকলেই জ্বালানি সংকটে ভুগছে। মজুত করা সিলিন্ডারে যতদিন চলে চলছে। তারপরই ঝাঁপ বন্ধের আশঙ্কায় কাঁটা ছিলেন বহু দোকান, রেস্তরাঁ মালিক। নিউ মার্কেটের বিখ্যাত ইহুদী বেকারি নাহুম অ্যান্ড সনসও তার ব্যতিক্রম নয়।
দোকানের সামনে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তারা জানিয়েছে, গ্যাস সমস্যার জেরে আপাতত বেকারি বন্ধ। এর জন্য ক্রেতাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। নাহুমের এমন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অবশ্য কতটা বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা বুঝতে পারছেন অনেকেই। এই বেকারির যাঁরা দীর্ঘদিনের ক্রেতা, তাঁরা জানেন, এ এক বিরল ঘটনা। কারণ, শত অসুবিধার মধ্যে নাহুম অ্যান্ড সনস প্রায় কখনওই বন্ধ থাকেনি। সাম্প্রতিককালে মাত্র দু'বার এমনটা হয়েছে। ২০১৩ সালে বেকারির কর্ণধার ডেভিড নাহুমের মৃত্যুতে ঝাঁপ বন্ধ ছিল কয়েকদিন। এরপর ২০২০ সালে কোভিডের কারণে লকডাউন এবং বেকারি বন্ধ। কিন্তু এবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জন্য ফের নাহুমের বিখ্যাত কেকের স্বাদে কোপ পড়ল।
