অভিরূপ দাস: অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবি অক্ষুণ্ণ রেখে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তাঁর সহপাঠীদের একাংশ গড়ে তুলেছিল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। আর জি করের জুনিয়র ডাক্তার অনিকেত মাহাতো, দেবাশিস হালদার, আসফাকুল্লা নাইয়ারা 'অভয়া ফান্ড' তৈরি করেন। কিছুদিন পর অভিযোগ ওঠে, সেই তহবিলের নামে অর্থ নয়ছয় হচ্ছে। সেই অভিযোগেই কার্যত সিলমোহর দিয়ে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে সংগঠনের সভাপতি পদ ছাড়লেন খোদ অনিকেত মাহাতো। বছরের প্রথম দিন, বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগপত্রে মতানৈক্যের কথা গোপন করেননি। সাফ জানিয়েছেন, যেভাবে ফ্রন্টের কাজ চলছে, তা অগণতান্ত্রিক এবং অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফাপত্র অনিকেত মাহাতোর।
২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার রুমে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর খুন করা হয় মহিলা চিকিৎসককে। তাঁর ন্যায়বিচারের দাবিতে কঠোর আন্দোলন শুরু করেন সহপাঠীরা। সিবিআই তদন্তভার নিয়ে খুব কম সময়ের মধ্যেই মামলার কিনারা করে ফেলে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাবাসে সাজা পায় সিভিক ভলান্টিয়ার, হাসপাতালের অস্থায়ী নিরাপত্তারক্ষী সঞ্জয় রায়। কিন্তু এই বিচারে সন্তুষ্ট হননি মৃতার পরিবার, আত্মীয়, বন্ধুরা। তাঁদের অভিযোগ, কিছু বিষয় গোপনে রেখে, কাউকে আড়াল করে বিচারপ্রক্রিয়া চলেছে। আর তাই আজও তাঁদের আন্দোলন চলছে দেশের শীর্ষ আদালতে।
এমতাবস্থায় অভয়ার জন্য আইনি লড়াইয়ের খরচ সংগ্রহ করতে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট তৈরি করেছিল 'অভয়া তহবিল।' এই তহবিল নিযেই যত সমস্যার সূত্রপাত। আর্থিক তছরূপের অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি ফ্রন্টের আন্দোলনের অভিমুখ বদলাচ্ছে বলেও অনেকে বলতে শুরু করেন। এবার এই ইস্যুতেই ইস্তফা দিলেন ফ্রন্টের সভাপতি অনিকেত মাহাতো। ইস্তফাপত্রে তিনি জানিয়েছেন, বারবার মতানৈক্য সত্ত্বেও তিনি যতটা সম্ভব আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন। তিনি ও তাঁর সতীর্থ দেবাশিস হালদার, আসফাকুল্লা নাইয়াদের বদলি নিয়েও প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন। ফ্রন্টের অসঙ্গতি নিয়ে বারবার নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও তাঁর কথায় কর্ণপাত করেনি কেউ। এই মুহূর্তে অনিকেতের মনে হয়েছে, ট্রাস্ট ও এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক ঠিক না করে, আইনি পরামর্শ উপেক্ষা করে যেভাবে ফ্রন্ট গঠন হয়েছে, তা অভয়ার ন্যায়বিচারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এসবের প্রতিবাদেই তিনি ইস্তফা দিলেন বলে জানিয়েছেন অনিকেত মাহাতো।
