বিয়েতে স্ত্রীকে সোনার গয়না উপহার দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোন্দল চরমে উঠতেই তা ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিলেন কাকলিপুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। পাশাপাশি পুজোয় তাঁকে উপহার দেওয়া পাঞ্জাবি ফিরিয়ে দেবেন বলেও সোশাল মিডিয়ায় জানালেন সাংসদপুত্র। পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগও করেছেন তিনি। ছেলের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে 'বিদ্রোহী' সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এক্স হ্যান্ডেলে লিখলেন, 'তোমার ও তোমার স্ত্রীর জন্য গর্বিত।'
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক চার দশকেরও বেশি। তৃণমূল সুপ্রিমোর লড়াইয়ের সঙ্গী ছিলেন তিনি। কিন্তু ছাব্বিশে পালাবদলের পর ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে দূরত্ব। প্রথমদিকে দু'পক্ষই মুখ বন্ধ রাখলেও একটা সময়ের অশান্তি প্রকাশ্যে এসেছে। 'বিদ্রোহী' শিবিরে নাম লিখিয়েছেন কাকলি। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাকলির এই শিবির বদলের কারণ হিসেবে নাম না করে অনেক কথাই বলেছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, দলের এক সাংসদ তাঁর দল ভাঙছেন। ওই সাংসদ ছেলের জন্য টিকিট চেয়েছিলেন, তা দেননি বলেই সাংসদ বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। উপহার স্বরূপ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাও পেয়েছেন। পরবর্তীতে দলের একাধিক সাংসদের মুখেও শোনা গিয়েছে সেই কথাই। যার জেরেই চটেছেন কাকলিপুত্র।
তিনি সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিয়েতে আমার স্ত্রীকে একটা সোনার হার উপহার দিয়েছিলেন। কয়েকবার পুজোয় আমাকে কুর্তা-পায়জামা দিয়েছেন। আমরা তা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সৌজন্যের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ব্যক্তিগত কারণে এই উপহারগুলি ফিরিয়ে দেওয়াই সমীচীন বলে মনে করছি।’ এপ্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "আমি ঠিক করেছি কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে ওগুলো দিয়ে আসব। সোনার হার ২ বছর ছিল আমাদের কাছে। যদি তার সুদ দিতে হয়, তা দিতেও রাজি। কিন্তু ওনার মতো মানুষের থেকে কোনও উপহার আমার চাই না।" পাশাপাশি কাকলিপুত্র জানিয়েছেন, তাঁর পরিবার নিয়ে কুকথা বলায় সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের ২ সাংসদকে আইনি নোটিস পাঠাবেন তিনি। মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে হাই কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
