দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্কে (Golpark) গন্ডগোলের ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। পিকনিককে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোড এলাকা। দু’পক্ষের মধ্যে চলে ইটবৃষ্টিও। এমনকী বোমাবাজি এবং গুলি চালানোরও অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় ইতিমধ্যে পৃথক পৃথক অভিযোগে তিনটি এফআইআর করা হয়েছে। পুলিশের গাড়ির ভাঙচুরের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলছে ধরপাকড়। অন্যদিকে এই ঘটনায় কাউকে ছাড়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার। তিনি জানিয়েছেন, ''ঘটনায় কাউকে ছাড়া হবে না। ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।''
রবিবারের এই ঘটনায় দক্ষিণ কলকাতার দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল ওঠে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, রবিবার তাঁদের পিকনিক ছিল। পিকনিক সেরে তাঁরা এলাকায় ফেরেন। রাত সাড়ে আটটার কিছু পরে অন্য এলাকার বেশ কিছু যুবককে তাঁদের এলাকায় আসতে দেখেন। এরপরেই রাতারাতি বদলে যায় এলাকার পরিস্থিতি! শুরু হয় তাণ্ডব। ভয়ে এলাকার মহিলারা তড়িঘড়ি বাড়ির ভিতরে চলে যান। কিছু স্থানীয় বাসিন্দা দুষ্কৃতীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। শুরু হয় ইটবৃষ্টি। অভিযোগ, ইটের ঘায়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। রাস্তায় রক্তের ছাপ মিলেছে। অভিযোগ, গোলমাল চলাকালীন দুষ্কৃতীরা বোমা ছোঁড়ে। শুধু তাই নয়, অন্তত এক রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এলাকা থেকে গুলির খোল ও বোমার টুকরো উদ্ধার হয়েছে।
বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, এলাকা দখল করার জন্য দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু তার অনুগামীদের পাঠিয়ে গোলমাল করেছে। একটি দলীয় অফিসে তারা হামলার টার্গেট করেছিল বলেও অভিযোগ। অন্যদিকে ঘটনার পর সোমবার সকাল থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। বিশাল পুলিশবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। রয়েছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজের সাহায্যে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
