বেলেঘাটায় তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক খুনের ঘটনায় পুলিশের জালে এক। ধৃত ব্যক্তির নাম রাজা দাস। ঘটনার দিন সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত রাজাকে চিহ্নিত করা হয়। এরপরেই নারকেলডাঙা এলাকা থেকে আজ, বুধবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইতিমধ্যে ধৃতকে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। কি কারণে এই ঘটনা তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিচিত ছিল রাজা। এমনকী ঘটনার আগে দু'জনের মধ্যে ফোনে কথা হয় বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
বিশ্বজিৎ বেলেঘাটার সক্রিয় তৃণমূল নেতা হিসাবে পরিচিত ছিলেন। এমনকী এবার ভোটে তৃণমূলের বুথ এজেন্ট হিসাবেও কাজ করেছিলেন তিনি। ভোটের ফল প্রকাশের পরের দিন বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক মৃত্যুর ঘটনায় একেবারে তোলপাড় পড়ে যায়। ঘটনার পরেই মৃতের বোন জানান, ঘটনার আগে একটি ফোন আসে। তারপরেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক। এরপর আর কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। ফোন সুইচড অফ হয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাঁকে খুঁজতে বেরয়। সেই সময় দেখা যায় একটি বাড়ির বাইরে একটি দরজা ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তার সামনেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন বিশ্বজিৎ। ওই ফোন কি ধৃত রাজার কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনায় বেলেঘাটা থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনার রহস্যভেদে খতিয়ে দেখা হয় এলাকায় থাকা সমস্ত এলাকার ফুটেজ। সেখানেই রাজা দাসকে দেখতে পাওয়া যায় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। শুধু তাই নয়, তদন্তকারীরা আরও দেখতে পান বিশ্বজিতকে ধাওয়া করছেন রাজা-সহ আরও বেশ কয়েকজন। এরপরেই একটি ফ্ল্যাটের ভিতর ঢুকে পড়েন মৃত ওই যুবক। যদিও এরপর কি ঘটেছি তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফ্ল্যাটের ভিতরে সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে তদন্তকারীরা। এই অবস্থায় ওই ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু কিনা তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।
