shono
Advertisement

লগ্নি করলেই চড়া সুদের টোপ, ৭০ কোটি টাকা হাতিয়ে গ্রেপ্তার প্রতারক

শুধু কলকাতায় অভিযুক্ত ২৭ কোটি টাকা প্রতারণা করেছে।
Posted: 01:55 PM Jun 21, 2023Updated: 02:05 PM Jun 21, 2023

অর্ণব আইচ: আমানতকারীরা লগ্নি করলেই মিলবে চড়া সুদ। আর্থিক লগ্নিকারী সংস্থার কর্তাদের ফাঁদে পা দিয়েছিলেন কলকাতার বহু প্রবীণ। নামী চিকিৎসক থেকে শুরু করে ব‌্যবসায়ী পর্যন্ত বিপুল টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় কোটি টাকা পর্যন্ত লগ্নি করেছিলেন ওই সংস্থায়। কিন্তু করোনাকে সামনে রেখেই প্রায় ৭০ কোটি টাকা হাতিয়ে উধাও হয়ে যান সংস্থার কর্তারা। গত বছর এক কর্তাকে গ্রেপ্তার করেছিলেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। সোমবার লালবাজারে ডেকে জেরা করার পর ওই লগ্নিকারী সংস্থার আরও এক কর্তা শ্রীকান্ত গুপ্তাকে গ্রেপ্তার করল গোয়েন্দা পুলিশ। শুধু কলকাতায় তাঁর বিরুদ্ধেই ২৭ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ হয়েছে।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, ২০২১ সাল থেকে একের পর এক অভিযোগ উঠে আসে ওই সংস্থাটির বিরুদ্ধে। ২০২১ সালের আগস্ট মাসে শেক্সপিয়র সরণি থানায় ওই সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান কলকাতার এক নামী চিকিৎসক। গত বছর সেপ্টেম্বরে রয়েড স্ট্রিটের বাসিন্দা এক ব‌্যবসায়ী পার্ক স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানান। আবার দিল্লি পুলিশ, এমনকী, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কাছেও সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। জানা গিয়েছে, মূলত ধনবান প্রবীণরাই ছিলেন ‘ক্রেডফোর্ড এশিয়া’ নামে ওই সংস্থাটির টার্গেট।

[আরও পড়ুন: জঙ্গিপুরে বোমা ফেটে ৫ শিশু জখম, মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট তলব জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের]

অভিযোগ, একশোরও উপর প্রবীণের কাছ থেকে ৭০ কোটি টাকা তোলে গুরগাঁওয়ের ওই সংস্থাটি। এজেন্টদের মারফৎ আমানতকারীদের বলা হয়, ওই সংস্থায় লগ্নি করলে ১২ শতাংশের উপর সুদ পাওয়া যাবে। মোটা টাকা ফেরত পাওয়ার লোভেই তাঁরা টাকা দফায় দফায় টাকা লগ্নি করতে থাকেন। কিন্তু ২০১৯ সালে শেষের দিক থেকে হঠাৎই সুদের টাকা ফেরত দেওয়া বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি। আমানতকারীদের দেওয়া চেক বাউন্স হতে শুরু করে। তখন কারণ হিসাবে জানানো হয়, বিশ্বজুড়ে কোভিড শুরু হয়েছে। তাই এখনই টাকা ফেরত দেওয়া যাচ্ছে না। এভাবেই ক্রমে অকেজো করে দেওয়া হয় ওই সংস্থাটিকে।

যদিও ওই সংস্থাটির যাবতীয় তহবিল, নথিপত্র দ্বিতীয় একটি সংস্থায় স্থানান্তর করা হয়। কর্মীদেরও দ্বিতীয় সংস্থার কর্মচারী বলে দেখানো হয়। ওই নতুন সংস্থার যাবতীয় তহবিল পাঠিয়ে দেওয়া হয় আমেরিকায়। টেক্সাস থেকে নতুন সংস্থাটি পরিচালনা করা শুরু হয়। সংস্থার কর্তারা দিল্লি থেকে আমেরিকায় যাতায়াত করতেন। তাই আমানতকারীরা বিদেশমন্ত্রকেও শরণাপন্ন হন। দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর এই সংস্থার এক কর্তা সঞ্জীব শুক্লাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

গত বছর তিহাড় জেল থেকে নিয়ে এসে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। তাঁকে জেরা করেই প্রচুর তথ‌্য এসেছিল গোয়েন্দাদের হাতে। তারই ভিত্তিতে সংস্থার অন‌্য এক কর্তা শ্রীকান্ত গুপ্তাকে লালবাজারে তলব করে গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগেও তাঁকে তলব করা হয়। তখন গ্রেপ্তার না করা হলেও এবার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার ব‌্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে তাঁকে ৩০ জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এই লগ্নিকারী সংস্থার আরও কয়েকজন কর্তা দেশের বিভিন্ন জায়গা, এমনকী, বিদেশেও রয়েছেন। তাঁদের শনাক্ত করে সন্ধান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

[আরও পড়ুন: নথি জাল করে প্রাথমিকে চাকরি বাংলাদেশি নাগরিকের! বেতন বন্ধের নির্দেশ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement