জেআইএস নিবেদিত 'সংবাদ প্রতিদিন' 'সরস্বতীর সেরা স্কুল' প্রতিযোগিতায় শহরের প্রতিটি স্কুলে জোর টক্কর দিতে প্রস্তুত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা। একেক স্কুলে একেক রকম থিম। কেউ কারও থেকে কম নয়। প্রত্যেকেই নিজেদের পুজো ইউনিক করে তুলতে ব্যস্ত। সেই প্রতিযোগিতায় নিজেদের ভাবনা তুলে ধরলেন শহরের তিন স্কুলের প্রধান।
ড. স্বাগতা বসাক
প্রধান শিক্ষিকা, টাকি হাউস বয়েজ
বিশ্ব বাংলা গেট দেখতে নিউটাউনে ছুটে যেতে হবে না। বীণাপাণির বন্দনায় বাংলায় নবনির্মিত এই গর্বের আধুনিক স্থাপত্য গড়ে উঠছে গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড মাল্টিপারপাস স্কুল ফর বয়েজ, টাকি হাউসে।এবারে তাদের পুজোর থিম 'কলকাতা তিলোত্তমা'।
বাঁশের কঞ্চি-ছেলা জুড়ে জুড়ে ও কাগজ দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশ্ব বাংলা গেটের কাঠামো। উচ্চতা প্রায় ১৪ ফুট। স্কুলের যে হলঘরের বেদিতে দেবী অধিষ্ঠান করবেন, তার আগেই দীর্ঘ এই
গেট বসানো থাকবে। গেটের নিচ দিয়েই পৌঁছে যেতে হবে পুজোর স্থানে। প্রতিবারের মতোই এবারও সরস্বতীর আরাধনা করবেন স্কুলের প্রাথমিক বিভাগের শিক্ষক অর্ক রায়। ফল কাটা, প্রসাদ বিতরণের কাজে শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে ছাত্ররাও।
থিম অনুযায়ী, প্রতিমার চারদিকের দেওয়ালে কলকাতার বিভিন্ন স্থাপত্য ও যাঁদের গরবে কলকাতা গরবিণী সেই সব মহাপুরুষ, মহীয়সীদের ছবি এঁকে সাজাচ্ছে পড়ুয়ারা। সেই সব ছবিতে স্থান পেয়েছে কলকাতার দুর্গাপুজো,ট্রাম, রিকশা, মেট্রো, ভিক্টোরিয়া, দক্ষিণেশ্বর, রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি।
এছাড়া প্রতিটি ক্লাসের প্রতিটি ছেলেকে দিয়ে ওয়ার্ক এডুকেশনে তৈরি করানো হয়েছে বীণা। সেই সমস্ত বীণা দিয়ে সাজানো হবে স্কুল চত্বর। অভিনব এক প্রদর্শনীও হবে। দেবীপ্রতিমা অন্যবারের মতো সাবেকি হবে। উচ্চতা মুকুট নিয়ে প্রায় সাড়ে সাত ফুট। মোহনবাঁশি রুদ্র পালের প্রতিমা স্কুলে আনার পর্বটাও ছাত্রদের কাছে উৎসবের মতো।
মধুমিতা সেনগুপ্ত
প্রধান শিক্ষিকা, বিডিএম ইন্টারন্যাশনাল
হাতেখড়ি হবে বেশ কয়েকজন খুদের। বাসন্তী পোশাকে গুটিগুটি আসবে তারা। চকের আঁচড়ে স্লেটে ফুটবে 'অ', 'আ'। বাঙালির চিরাচরিত এই প্রথা দেখা যাবে সরস্বতী পুজোর দিনে। একটি এনজিও থেকেও আসবে ছাত্রছাত্রীরা। হাতেখড়ি উৎসবে, বাগদেবীর আরাধনায় মাতবে তারাও। গত কয়েকদিন ধরেই স্কুলের পরিবেশে সরস্বতী পুজোর গন্ধ।
এমনিতে সারা বছর স্কুলে প্রতিষ্ঠিত মর্মর মূর্তিতে পুজো হয়। কিন্তু শুক্লাপঞ্চমীতে মৃন্ময়ী রূপে জ্ঞানের দেবী আসেন।
বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরা হইহই করে অংশ নিচ্ছে পুজোর আয়োজনে। এবারও পড়ুয়ারা আলপনা দিয়ে, ফুল দিয়ে রঙ্গোলি সাজিয়ে আমাদের পাশাপাশি দু'টো স্কুলকেই সাজাচ্ছে। এমনিতে সারা বছর স্কুলে প্রতিষ্ঠিত মর্মর মূর্তিতে পুজো হয়। কিন্তু শুক্লাপঞ্চমীতে মৃন্ময়ী রূপে জ্ঞানের দেবী আসেন। প্রতিমার আকার ছোট হলেও ক্যাম্পাস সাজানো, পুজোর আপ্যায়নে কোনও খামতি থাকে না। পুজোয় অঞ্জলির পাশাপাশি বীণ্যবাদিনীর আরাধনায় স্কুলে কয়্যার বের করবে পড়ুয়ারা। এছাড়া স্টেজে সোলো নাচ-গান পারফর্ম করবে ছাত্রছাত্রীরা। পেটপুজোও হবে পুজোর দিনেই। প্রাক্তনীদের মহামিলন সরস্বতী পুজো। আমাদের স্কুলে প্রাক্তনীদের সাবলীল অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো।
লিসা বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রধান শিক্ষিকা, কলকাতা ব্লাইন্ড স্কুল
"ও দিদিমণি, এবার প্রতিমার চারদিকে জোরালো আলো দিয়ে সাজিয়ে দেবেন? খুব উজ্জ্বল আলোয় যেন চারদিক জ্বলজ্বল করে। সরস্বতী ঠাকুর অনেক আলোর মধ্যে বসে থাকবেন অভয়দাত্রী রূপে। সামনেই আমাদের পরীক্ষা। বড্ড ভয় করছে যে! মন দিয়ে পুজো করলে মা সরস্বতী নিশ্চয়ই আমাদের অকৃতকার্য করবেন না? তাই না?"
কলকাতা ব্লাইন্ড স্কুলে প্রায় ৮০-৮৫ জন আবাসিক পড়য়ার পড়াশোনা। এবার ওদের ভীষণ ইচ্ছা ছিল রাজহাঁস নিয়ে কিছু একটা সাজাবে।
প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় সব পড়ুয়ার এবারের আবদার এটাই। নিজেদের দু'চোখ জুড়ে অন্ধকার। আলো কী জিনিস ওরা বোঝে না। হয়তো কল্পনা করে। সেই আবদার তো আমাদের মেটাতেই হবে।
কলকাতা ব্লাইন্ড স্কুলে প্রায় ৮০-৮৫ জন আবাসিক পড়য়ার পড়াশোনা। এবার ওদের ভীষণ ইচ্ছা ছিল রাজহাঁস নিয়ে কিছু একটা সাজাবে। একজন এসে ক'দিন আগে বলল, "আমরা না সরস্বতীর বাহন রাজহাঁস নিয়ে থিম করব। আমরা সবাই মিলে বড় একটা রাজহাঁস বানাব। এর মধ্যেই একটা ছোট হাঁস বানিয়েও ফেলেছি।" পুঁচকেগুলোর সেই ইচ্ছা অবশ্য পূরণ হল না। সামনেই পরীক্ষা বলে ওরা খুব বেশি কিছু করতে পারেনি। তবে পুজোর বাজারের ফর্দ থেকে বাজার করা, কুমোরটুলিতে ঠাকুর অর্ডার দেওয়া, এমনকী চাঁদা তোলা, টাকার হিসাব রাখার মতো বীণাপাণির বন্দনা ঘিরে সব কাজ নিজেরা করছে ওরা।
সবমিলিয়ে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে ।সকলেই নিজেদের সেরাটা দিয়ে 'সরস্বতীর সেরা স্কুল' -এর লড়াইতে নামতে প্রস্তুত । বিজয়ীদের নাম প্রকাশিত হবে ২৪ জানুয়ারি,২০২৬, সকালে ।
