মুখ পুড়লেও হার মানতে নারাজ! ঝলসে যাওয়া মুখাবয়ব নিয়ে জারি রয়েছে বেঁচে থাকার লড়াই। কেউ জামাকাপড় সেলাই করছেন। কেউ খুলেছেন রোলের দোকান। স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে সুনীতা দত্ত, টুসি মণ্ডলরা। সকলেরই ভরসা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar)। তাঁদের কথায়, "এই লড়াইয়ে বড় ভরসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার।"
'অ্যাসিড আক্রান্তদের আরোগ্য মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন' শীর্ষক অনুষ্ঠানে হাজির হন অ্যাসিড আক্রান্ত তরুণীরা। বললেন, "লড়াই কঠিন। কিন্তু অসম্ভব নয়।" অ্যাসিডে মুখ পুড়ে বহিরঙ্গ ছারখার। সহজে তাঁদের কাজে নিতে চায় না কেউ। আয়ার কাজ? "বাচ্চা ভয় পাবে।" এই কারণে মেলে না বাড়ির কাজের লোকের কাজও। তবু প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছেন তাঁরা।
অ্যাসিড আক্রান্ত পলি দেবনাথ, মঙ্গলবার এসএসকেএম হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রির মনস্তাত্ত্বিক সমাজকর্ম বিভাগ ও একটি ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছিল এক বিশেষ অনুষ্ঠানের। 'অ্যাসিড আক্রান্তদের আরোগ্য মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন' শীর্ষক অনুষ্ঠানে হাজির হন অ্যাসিড আক্রান্ত তরুণীরা। বললেন, "লড়াই কঠিন। কিন্তু অসম্ভব নয়।" অ্যাসিডে মুখ পুড়ে বহিরঙ্গ ছারখার। সহজে তাঁদের কাজে নিতে চায় না কেউ। আয়ার কাজ? "বাচ্চা ভয় পাবে।" এই কারণে মেলে না বাড়ির কাজের লোকের কাজও। তবু প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছেন তাঁরা। অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে অক্সিজেন জুগিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। তা সম্বল করেই বাচ্চাদের জামাকাপড় সেলাই করেন পলি দেবনাথ। নদিয়া রানাঘাটের বাসিন্দা পলির মুখে অ্যাসিড ছোড়া হয় ২০১৪ সালে। নেপথ্য কারণ? "পাড়ার একটি ছেলে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। ফিরিয়ে দিতেই মুখে অ্যাসিড।" পলির কথায়, "এই ঘটনার পর স্বামীও ছেড়ে চলে যায়।" ইছাপুরের সুনীতা দত্ত জানিয়েছেন, ২০১০ সালে প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে তাকেও অ্যাসিড ছুড়েছিল আততায়ী। তারপর? "পঁচিশটি সার্জারি হয়েছে। এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা চলেছে দীর্ঘদিন। আপাতত বিয়ে হয়েছে।"
সংগ্রাম জারি রেখেছেন টুসি মণ্ডলও। সাতাশ বছরের টুসি অ্যাসিড হামলার শিকার হন ২০১৬ সালে। তখন তিনি দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ক্যানিংয়ের বাসিন্দা টুসির কথায়, “স্কুল যাতায়াতের পথে মেয়েদের টিটকিরি দিত দু'-একজন। সে ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলাম। তার বদলা নিতেই মুখে অ্যাসিড।” এখন বাড়িতে হাঁস-মুরগি পুষে জীবন ধারণের চেষ্টা করছেন টুসি। তাঁরও বড় ভরসা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। মঙ্গলবার ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রিতে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন ডিরেক্টর মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায়, অতিরিক্ত স্বাস্থ্য অধিকর্তা সুব্রত রায়, ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রির ডা. সুজিত সরখেল, যুগ্ম স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা ডা. কৌশিক কর, মনস্তাত্ত্বিক সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মায়াঙ্ক কুমার। ডা. মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অ্যাসিড হামলা একটা সামাজিক সমস্যা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উইমেন গ্রিভান্স সেলের ওসি ইন্সপেক্টর সোফিয়া মল্লিক। জানিয়েছেন, বাংলায় অ্যাসিড হামলার ঘটনা ক্রমশ কমছে। রাজ্য কড়া নিয়ম প্রণয়ন করেছে। প্রতিটি দোকানে কড়া নজরদারি চলছে। অ্যাসিড বেচাকেনা করেন এমন প্রতিটি দোকানকে লগবুক মেইন্টেন করতে হবে।
