shono
Advertisement
TMC

বঙ্গ রাজনীতিতে উলটপুরাণ! তৃণমূলের জমিতেই 'ঘর' বাঁধার সুযোগ খুঁজছে বাম-কংগ্রেস

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, স্থানীয় স্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং বিভিন্ন অভিযোগ বিরোধীদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
Published By: Sayani SenPosted: 08:52 AM Jun 22, 2026Updated: 09:05 AM Jun 22, 2026

মাত্র ১৫ বছরের ব্যবধানে বাংলার রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে এক উলটপুরাণ। ভাঙা-গড়ার খেলা তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেসে। এপারে ভাঙছে তৃণমূল। ওপারে গড়ছে বাম-কংগ্রেস। ভাঙাগড়ার খেলায় একদিকে ক্ষয় ধরছে তৃণমূল কংগ্রেসে, অন্যদিকে নতুন করে জমি ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাম ও কংগ্রেস শিবির। নির্বাচনে ভরাডুবির পর প্রতিদিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের অন্দরে দেখা যাচ্ছে ভাঙনের ছবি। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সৈনিকদের কেউ কেউ দল ছাড়ছেন, আবার কেউ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

Advertisement

যে বাম ও কংগ্রেসের সংগঠনের ভিত নড়বড়ে করে তৃণমূল গত দেড় দশকে নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছিল, ভোটে পরাজয়ের পর সেই পুরনো জমিতেই ফের ঘর বাঁধার চেষ্টা শুরু করেছে বিরোধীরা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, স্থানীয় স্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং বিভিন্ন অভিযোগ বিরোধীদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল ছেড়ে আসা নেতা-কর্মীদের একাংশ বামপন্থী বা কংগ্রেসের সংগঠনে যুক্ত হচ্ছেন। তাঁদের মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে আন্দোলন ও জনসংযোগ কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে বিরোধী দলগুলি। বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের অন্দরের এই টানাপোড়েনই রাজ্যে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে আনছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এই দাবি মানতে নারাজ। দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে দলের সামগ্রিক শক্তি বিচার করা যায় না।

এদিকে, সংগঠন পুনর্গঠনে সক্রিয় হয়েছে বাম শিবির। ২৩ ও ২৪ জুন সিপিএম রাজ্য কমিটির বৈঠকে দলের সাংগঠনিক অবস্থান, ভবিষ্যৎ কৌশল এবং বিজেপি বিরোধী আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। অন্যদিকে, কংগ্রেসও নতুন করে সংগঠন বাড়াতে দলীয় দরজা খুলে দিয়েছে। আগামী দিনে রাহুল গান্ধীকে কলকাতায় এনে যোগদান কর্মসূচির গতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রদেশ নেতৃত্ব। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানান, দলের আদর্শ মেনে কেউ কংগ্রেসে আসতে চাইলে তাঁকে স্বাগত। কিন্তু, কারও বিরুদ্ধে যদি কোনও দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, তার জন্য দরজা খোলা হবে না।

সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তাঁদের দলে যোগদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু মাপকাঠি রয়েছে। যোগ্যতা অর্জন করলে তবেই সদস্যপদ দেওয়া হয়, তবে সমর্থনের ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে ফের শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণের আলোচনা। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও অসন্তোষকে কেন্দ্র করে বাম ও কংগ্রেস নিজেদের পুনর্গঠনের সুযোগ খুঁজছে। আগামী দিনে এই প্রবণতা কতটা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের মনোভাব এবং বিরোধীদের সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষমতার উপর।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement