রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা নানা বই থাকত সরকারি গ্রন্থাগারে। ক্ষমতার পালাবদলের পর বদলাচ্ছে গ্রন্থাগারগুলির খোলনলচে। আর গ্রন্থাগারে থাকবে না মমতার 'এপাং-ওপাং-ঝপাং' বই। তার পরিবর্তে রাষ্ট্রবাদী চেতনার বই থাকবে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জানালেন জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ (Gouri Shankar Ghosh)।
গ্রন্থাগারমন্ত্রী বলেন, "এপাং-ওপাং-ঝপাংয়ের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা অপ্রয়োজনীয় বই থাকবে না লাইব্রেরিতে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর লেখা যে বইগুলি পড়ে ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান অর্জন হবে না, সেগুলি লাইব্রেরি থেকে সরানো হবে।"
তাঁর দাবি, "শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ওঁর অবদান ভোলার নয়। তাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বই রাখা হবে। পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কেও ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আসলে আগের সরকার চলেছে একনায়কতন্ত্র মানসিকতা নিয়ে। তাঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের) নিজস্ব আইন প্রযোজ্য ছিল।"
তিনি আরও বলেন, "এপাং-ওপাং-ঝপাংয়ের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা অপ্রয়োজনীয় বই থাকবে না লাইব্রেরিতে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর লেখা যে বইগুলি পড়ে ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান অর্জন হবে না, সেগুলি লাইব্রেরি থেকে সরানো হবে। লাইব্রেরিগুলির আধুনিকীকরণ করা হবে। জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদ, আধুনিক বিজ্ঞান, বাংলার মনীষীদের বই থাকবে। তাছাড়া শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বইও থাকবে।" এছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ই-লাইব্রেরিও করা হবে বলেই জানান মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগেই স্কুল পাঠ্যবইয়ে ভারতের গৌরবময় ইতিহাস বাদ দিয়ে বিকৃত ইতিহাস পড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুধু শমীক ভট্টাচার্যই নন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা বিভিন্ন নেতাদের বক্তব্যেও একাধিক সময়ে দেশের বিকৃত ইতিহাস বদলের কথা উঠে এসেছে। জাতীয়তাবাদের কথাও উঠে এসেছে। সনাতনী ভারতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, বৈদিক বিজ্ঞান-সংস্কৃতির কথাও উঠেছে। এমনকী বারবার স্বাধীনতা সংগ্রামের কথাও উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী-সহ বিভিন্ন নেতাদের বক্তব্যে। এই অবস্থায় বাংলার শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম, শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক মান-সহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে আরএসএস। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এবার ‘বিকৃত ইতিহাস’মুছে জাতীয়তাবাদের পাঠ পড়ানো হবে বাংলায়?
