খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ভাঙার নোটিস। সেই নোটিস আবার পাঠানো হয়েছে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার তরফে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে কলকাতার পুরপ্রধান ফিরহাদ হাকিম। খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ। ফিরহাদ অবশ্য চাপের মুখে দাবি করছেন, তিনি কিছুই জানেন না।
মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, কোনও বেআইনি নির্মাণকে রেয়াত করা হবে না। ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক প্রান্তে চলেছে বুলডোজার। খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুটি বাড়ি, শান্তিনিকেতন ও কালীঘাটে পৌঁছেছে পুরসভার নোটিস। সেখানে জানানো হয়েছে, বেআইনি নির্মাণ হয়ে থাকলে অবিলম্বে তা ভাঙতে হবে। অন্যথায় পুরসভার তরফে তা ভেঙে দেওয়া হবে। প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা অভিষেকের বাড়ি ভাঙার নোটিস পাঠাল কেন? যদি ওই বাড়ি বেআইনিই হবে, তাহলে এতদিন পর কেন পুরসভার ঘুম ভাঙল?
সূত্রের খবর, অভিষেকের বাড়িতে নোটিস পাঠানোয় ক্ষুব্ধ খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার পুরসভার মেয়র পারিষদ এবং মেয়রকে নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই অভিষেকের বাড়িতে নোটিস পাঠানো নিয়ে তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করেন। খোদ মেয়র ফিরহাদের কাছে তিনি জানতে চান, এই নোটিস কীভাবে এবং কেন পাঠানো হল। তাতে নাকি ফিরহাদ সবিনয়ে জানিয়েছেন, ওই নোটিসের বিন্দুবিসর্গ কিছু জানতেন না। তাঁকে আড়ালে রেখেই ওই নোটিস পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ পুরসভা একজন সাংসদকে নোটিস পাঠিয়েছে, সেটা পুরপ্রধানই সেটা জানেন না।
সূত্রের খবর, অভিষেককে কলকাতা পুর আইনের ৪০১ ধারায় নোটিস পাঠানো হয়েছে। ওই আইন অনুযায়ী, পুর কমিশনার চাইলে নিজের ক্ষমতাবলেই ওই ধরনের নোটিস পাঠাতে পারেন। আলাদা করে মেয়রকে জানানোর দরকার হয় না। মনে করা হচ্ছে, অভিষেককে নোটিসও পাঠানো হয়েছে ওইভাবেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি গোটা রাজ্যের মতো পুরসভার নিয়ন্ত্রণও তৃণমূলের হাত থেকে বেরিয়ে গেল?
