দুই বাংলার সৌহার্দ্যের সম্পর্ক বরাবরের। বিশেষত ভোজনরসিক বাঙালির খাদ্যাভ্যাস এই সুসম্পর্কের বড়সড় ভিত। আম, ইলিশপ্রিয় 'আমবাঙালি'র হাত ধরে আগাগোড়া এগিয়েছে রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্পর্কও। মাঝে দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনকে ঘিরে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু পদ্মাপাড়ে নবনির্বাচিত সরকারের আমলে সেই তিক্ততা ভুলে সম্পর্ক মধুর করতে উদ্যোগী এপার বাংলা। তারই প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বাংলাদেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে উপহার স্বরূপ বাংলার মিষ্টি এবং ফুল পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঢাকার গুলশনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সেই উপহার পৌঁছনোর খবর নিশ্চিত করেছেন মিডিয়া সেলের সদস্যরা। 'দিদি'র এমন উপহারে যথারীতি আবেগে ভাসলেন খালেদাপুত্র।
নবনির্বাচিত সরকারের আমলে তিক্ততা ভুলে সম্পর্ক মধুর করতে উদ্যোগী এপার বাংলা। তারই প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বাংলাদেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে উপহার স্বরূপ বাংলার মিষ্টি এবং ফুল পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঢাকার গুলশনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সেই উপহার পৌঁছনোর খবর নিশ্চিত করেছেন মিডিয়া সেলের সদস্যরা।
শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক ছিল বড় সুন্দর। উভয়ের মধ্যে দিদি-বোনের মতো ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক ছিল। দেখা হলে প্রশাসকের গাম্ভীর্য ছেড়ে একে অপরকে নিখাদ আন্তরিকতায় জড়িয়ে ধরেছেন - এই ছবি খুবই পরিচিত। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশে হাসিনা জমানা পতনের পর কূটনৈতিক কারণেই সেই সম্পর্কে ছেদ পড়ে। তবে সেই অধ্যায় এখন অতীত। বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিয়ে নতুন সরকার নির্বাচন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর জয় নিশ্চিত হতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 'তারেকভাই' সম্বোধন করে এক্স হ্যান্ডলে শুভেচ্ছাবার্তা পোস্ট করেছিলেন। তারেকের শাসনকালে দুই বাংলার সুসম্পর্ক আরও গতি পাবে বলে আশাপ্রকাশ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
এবার জানা গেল, সোশাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েই থেমে থাকেননি 'দিদি'। বাংলাদেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রীকে ফুল এবং বাংলার মিষ্টি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গুলশনে বিএনপি চেয়ারম্যানের দলীয় কার্যালয়ের তরফে মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমান এবং বিশেষ আধিকারিক মেহেদুল ইসলাম মেহেদির উপস্থিতিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সেই উপহার পৌঁছেছে বলে খবর। বাংলার মিষ্টি পাঠিয়েই দুই বাংলার মধ্যে মমতা ফের 'মিষ্টি' সম্পর্কের ভিত গাঁথলেন বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। এর আগে হাসিনা আমলে বরাবর গ্রীষ্মে দু'দেশের মধ্যে আম বিনিময় হতো। নিজের বাপেরবাড়ির পাড়ার বিখ্যাত হাঁড়িভাঙা আম হাসিনা উপহার হিসেবে পাঠাতেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। তারেকও একই পথে চলবেন? সেটাই দেখার।
