তাঁর প্রয়াত মায়ের কর্নিয়ায় চোখের আলো ফিরে পেয়েছেন দুই দৃষ্টিহীন। কিন্তু এই 'অপরাধে'ই তাঁকে জেল খাটতে হয়েছে। যদিও তুমুল বিতর্কের মধ্যে বৃহস্পতিবার জামিন পেয়েছেন নদিয়ার আমিরচাঁদ। এরপরেই আজ শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে তাঁর আবেদন, ‘‘মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে বলবো মায়ের চোখের কর্নিয়া দান করতে গিয়ে যাদের দুরভিসন্ধির জন্য আমায় জেল খাটতে হল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। যদি এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাহলে আপামর বিজ্ঞানকর্মীরা ধন্যবাদ জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।’’
উল্লেখ্য নদিয়ার বাড়িতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু হয় আমির চাঁদ শেখের মা রাবিয়া বিবি শেখের। আমির চাঁদের দাবি, ‘‘মা মৃত্যুর আগে কর্নিয়া দান করে গিয়েছিলেন। যাতে মৃত্যুর পরেও তাঁর কর্নিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টি ফিরে পান দৃষ্টিহীনরা।’’ সেইমতো মা মারা গেলে খবর দেওয়া হয় জেলার বিজ্ঞান সংগঠন শান্তিপুর মরমী-কে। বৃদ্ধার কর্নিয়া দু’টি সংগ্রহ করা হয়। এবং সেদিনই সংগঠনের তরফে সেই কর্নিয়া দান করা হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের আই ব্যাঙ্কে। কিন্তু এর মধ্যেই তৈরি হয় গন্ডোগোল। বিষয়টি জানাজানি হতেই একদল দুষ্কৃতী আমির চাঁদ শেখের বাড়িতে হামলা চালায়। ওঠে কিডনি চুরির অদ্ভুত অভিযোগ।
আমির চাঁদ জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে খবর দেওয়া হলে কোনও প্রকার তদন্ত ছাড়াই তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রেখে দেওয়া হয় জেল কাস্টডিতে। আপাতত জামিনে মুক্ত আমির চাঁদ। কারা সেদিন হামলা চালালো আমির চাঁদের বাড়িতে? অনেকেই মনে করছেন এর নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে। শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সমাজকর্মী বিনয় বসু মল্লিক জানিয়েছেন, বিশেষ একটি রাজনৈতিক দল একটা বাইনারি তৈরির চেষ্টায় মত্ত। আমির চাঁদ শেখ বিশেষ ধর্মালম্বি মানুষ বলেই তাঁকে একদল দুষ্কৃতী হেনস্তা করল কিনা সেটাও বিচার্য। আজ শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির ছিলেন ডা. ফুয়াদ হালিম, গণদর্পণের মনিশ সরকার, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সৌরভ চক্রবর্তী।
